ভেড়ামারায় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ সম্পূর্ন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পর উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আট জেলার বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হবে। বিদ্যুতের অব্যাহত ঘাটতি মোকাবিলায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। স্থান নির্বাচন করা হয়, দেশের বৃহত্তম তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং লালন শাহ সংযোগ সড়ক সেতুর পাশে।

আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় জাপানের মারুবেনি করপোরেশন নামের একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। কাজটি তদারকি এবং বুঝে নেয় নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

২ হাজার ৭৮৬টি শক্তিশালী পাইলিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এ প্ল্যান্টে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি গ্যাস ইউনিট এবং একটি স্টিম টারবাইন ও একটি এইচআরসিজি স্থাপন করা হয়েছে, যা দিয়ে উৎপাদন করা হবে ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সাধারণ গ্যাস টারবাইন দিয়ে ৩০০ এবং গ্যাস টারবাইনের ফ্লু গ্যাস দিয়ে স্টিম টারবাইনের মাধ্যমে উৎপাদন হবে আরও ১৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। শক্তিশালী এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ৪৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনে আসে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ। এ সময় শুধু গ্যাস টারবাইনে ২৮৭.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। পরে তা উন্নীত হয় ৩০০ মেগাওয়াটে। এরপর ১৫ ডিসেম্বর গ্যাস টারবাইনের ফ্লু গ্যাস দিয়ে স্টিম টারবাইনের মাধ্যমে আরও ১৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সফলতা লাভ করেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলীরা। এরপর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাস দিয়ে প্ল্যান্টটি চালানো হবে বলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হবে মাত্র ১ টাকা ৮৯ পয়সা।

ভেড়ামারায় কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদ হালিম জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গত বছর ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছে। বর্তমানে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রকৌশলীদের নিরলস প্রচেষ্টায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিরবচ্ছিন বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। প্রাকৃতিক গ্যাস দ্বারা সর্বনিম্ন মূল্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এ অঞ্চলের বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবকিছুই প্রস্তুত। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষার পালা।

ভেড়ামারায় কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও প্ল্যান্ট ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী আমরা গ্যাস পাচ্ছি না। প্ল্যান্টে ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রতিদিন গ্যাস প্রয়োজন ৬৫ এমএমসিএফটি।

কিন্তু সেখানে পাচ্ছি মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ এমএমসিএফটি। যে কারণে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারছি না। এ প্ল্যান্টটি সর্বোচ্চ ৪৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। এ কেন্দ্রটির মাধ্যমে উত্তর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

প্রিন্স, ঢাকা