৪২ শতাংশ নারী হাসপাতালে খারাপ ব্যবহারের শিকার

 

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের জনসেবা খাতে আর্থিক ও সামাজিক বিনিয়োগ কমছে। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি, পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাবে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ ক্ষেত্রে নারী সেবাগ্রহীতার অবস্থান আরও খারাপ। স্বাস্থ্য ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা খাতগুলো জেন্ডার সংবেদনশীল নয়।

একশনএইড বাংলাদেশের ‘নারীর জন্য নিরাপদ নগরী’ নামের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৪২ শতাংশ নারী হাসপাতালে গিয়ে খারাপ ব্যবহারের শিকার হন। ওই গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৪ শতাংশ নারী মনে করেন শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সেবাগুলো অনিরাপদ।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে জেন্ডার সংবেদনশীল জনসেবা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি শীর্ষক দুই দিনব্যাপী একটি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। জনসেবা খাতে সরকারের বাজেট, উদ্যোগ, বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা পর্যালোচনা করে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে একশনএইড বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির (স্পর্শ, বাজে ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য) শিকার হন। ক্রমাগত নগরায়ণের ফলে শহরে জেন্ডার সংবেদনশীল জনসেবা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ দিন দিন বাড়ছে। নগরে নারীরা সরকারি জনসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে নিরাপদ জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ কমছে।

অনুষ্ঠানে জনসেবা খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরেন একশনএইড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক নুজহাত জাবিন। সম্মেলনের ধারণাপত্রে বলা হয়, সরকারি জনসেবাগুলো, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নগরসেবায় বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে উদাহরণ হিসেবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের চিত্র তুলে ধরা হয়।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৪.৭১ শতাংশ। যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৬.২ শতাংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষ ও পেশাজীবী সেবাদাতার অভাব। শিক্ষা ক্ষেত্রে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ১৪.৩৯ শতাংশ। যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ছিল ১৪.৩০ শতাংশ।

আবার কেন্দ্রভূত বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থার ফলে নাগরিকদের সঠিক চাহিদার প্রতিফলন বাজেটে হচ্ছে না। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবহন সেবার ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন সেবা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সেবা বেসরকারিকরণের ফলে সেবা নিতে খরচ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। ইন্টারন্যাশনাল বাজেট পার্টনারশিপ ওপেন বাজেট সার্ভে ২০১৭ অনুযায়ী, অংশগ্রহণ সূচকে বাংলাদেশের অর্জন ১০০-তে মাত্র ১৩, স্বচ্ছতার সূচকে প্রাপ্তি ১০০-তে ৪১, যার অর্থ তথ্য সরবরাহে বাংলাদেশ এখনো অনেক দুর্বল।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, সরকার নির্বাচিত হয় মানুষের সেবার জন্য। আর দেশের সব নাগরিকের জন্য একই ধরনের সেবা নিশ্চিত করা উচিত। কিন্তু সেবা দেওয়ার জন্য যেই পরিকল্পনা করা হয় তা আসলে সবার কথা চিন্তা করে করা হয় না।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আরবান ফোরামের সাবেক সহসভাপতি সালমা এ. শাফি, কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়া চৌধুরি, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক আতাউর রহমান বক্তব্য রাখেন।