তুরস্কে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উৎযাপন

নিউজ ডেস্ক: উৎসবমুখর আবহে ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, আঙ্কারায় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দীকীর নেতৃত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটায় বাংলাদেশ সময়ের সাথে মিল রেখে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্যে দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন। এরপর রাষ্ট্রদূত কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে দূতাবাস মিলয়নায়তনে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতেই দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপ্রতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

এরপর রাষ্ট্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অতুলনীয় অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

২৭ মার্চ সন্ধ্যায় আঙ্কারাস্থ সুইস হোটেলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী হাকান চাবুসওলো। এছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক বিভাগের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত তাঁর সংক্ষিপ্ত সূচনা বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সক্রিয় প্রচেষ্টার বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি অতি সম্প্রতি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকের বিভিন্ন মানদণ্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিষয়ে বিশেষভাবে আলোকপাত করেন।

তুরস্কের জনসাধারণের কাছে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের ইতিহাসকে সার্বিকভাবে তুলে ধরতে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকীতে আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাস তুরস্ক সরকারের ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সুবিদিত প্রতিষ্ঠান আতাতুর্ক সুপ্রিম কাউন্সিলের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ তুর্কি ভাষায় প্রকাশ করে। তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী হাকান চাবুসওলো এবং রাষ্ট্রদূত যুগ্মভাবে তুর্কি ভাষায় প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ সুবিধা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রার ওপর বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। সম্প্রতি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ বিষয়ে দূতাবাস হোটেলের ছবি গ্যালারিতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর ‘২১ শতকে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।