পল্লবীতে পানির ট্যাংকে বিস্ফোরণে দগ্ধ শিশুর মৃত্যু

 

নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর পল্লবীর বাসাবাড়িতে পানির রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করার সময় বিস্ফোরণে শিশু ও নারীসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন বছরের শিশু রুহির মৃত্যু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর ডি ব্লকের ১৯ নম্বর রোডের একটি বাড়ির নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্ককাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দগ্ধরা হলেন, বাড়ি মালিক ইয়াকুব আলী (৭০), তার স্ত্রী হাসিন আরা খানম (৬০), বাড়ির ভাড়াটে ইয়াসমিন আক্তার (৩৫), ইয়াসমিনের তিন বছরের মেয়ে রুহি এবং শ্রমিক হাসান (৩২)।

দগ্ধদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক এনায়েত কবির জানান, দগ্ধদের মধ্যে ইয়াকুবের শরীরের ২৫ শতাংশ, হাসিন আরা খানমের ৯৫ শতাংশ, ইয়াসমিনের ৪১ শতাংশ, রুহির ৯০ শতাংশ ও হাসানের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ পাঁচজনের সবারই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।

জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে ওই বাড়ির রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য হাসান নামে একজন শ্রমিক ট্যাংকের ঢাকনা খুলে টর্চলাইট দিয়ে আর্বজনা দেখছিল। এসময় সে ট্যাংকের মধ্যে গ্যাসের গন্ধ পান। সেটা দূর করতে তিনি সেখানে মোম জ্বালান। তখনই বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে থাকা পাঁচজনই দগ্ধ হন। তখন প্রতিবেশীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এদিকে বিস্ফোরণের খবরে ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর স্টেশনের কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্যাংকটি পরিষ্কার না করায় গ্যাস জমে ছিল। শ্রমিক হাসান ট্যাংকের মধ্যে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরালে ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয় এবং দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। তিনি আরো বলেন, নিচতলার আশপাশে পরিষ্কার থাকায় আগুন স্থায়ী হয়নি। ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস শেষ হতেই অল্প সময়ে তা নিভে যায়। তবে ওই লোকগুলো ট্যাংকের খুব কাছাকাছি থাকায় দগ্ধ হন।