নারীর প্রতি বৈষম্য নির্মূলে মানসিকতার পরিবর্তন আবশ্যক : তারানা হালিম

নিউজ ডেস্ক: তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম বলেছেন, নারীর প্রতি বৈষম্য নির্মূলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নারী বান্ধব সরকার। সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে নারীরা আজ সমাজের সর্বস্তরে এগিয়ে যাচ্ছে। নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল নয়, রাজনৈতিক উন্নয়নও হতে হবে, তবেই নারীর ক্ষমতায়ন হবে।’

মঙ্গলবার পিকেএসএফ ভবনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস -২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ সচিব মো. জিল্লার রহমান। এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম। এছাড়াও সেমিনারে আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী পরিচালক নিলুফার বানু।

অনুষ্ঠানে ‘সময় এখন নারীর : উন্নয়নে তারা বদলে যাচ্ছে গ্রাম-শহরে কর্মজীবন ধারা’-শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান।

দেশের আর্থ-সামাজিক ও নারী উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় পিকেএসএফ-এর পক্ষ থেকে স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক বেগম রোকেয়াকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় ।

সমাজ কল্যাণ সচিব মো. জিল্লার রহমান নারী উন্নয়নে মন্ত্রণালয় গৃহীত নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে নারীদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, নারী-পুরুষ সমতার মাধ্যমে সমাজ এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদি। সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করার প্রতি জোর দেন তিনি।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়ন আবশ্যক। সুযোগের সমতা নিশ্চিত ও মানব মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করে নারীর চলার পথকে আরও সুসংহত করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।