নাজিরার টেকের মানুষের জীবিকার অবলম্বন শুকনা মাছ

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার শহরে সর্বসাধারণ থেকে শুরু করে দেশী বিদেশী পর্যটকদের কাছে পরিচিত সমুদ্র সৈকত ও শুটকি পল্লীকে ঘিরে। যদিও দেখার মতো নানান বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে, তবে সকলের কাছে পরিচিত সৈকত ও শুটকি পল্লীর মাধ্যমে।

শহরের ১নং ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নাজিরার টেক শুটকি পল্লী। প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস শুটকি পল্লীকে ঘিরে। মূলত মোস্তাক পাড়া, বাসিন্না পাড়া, সমিতি পাড়া, দক্ষিণ কুতুবদিয়া পাড়া, বন্দর পাড়া ও নোয়া পাড়াকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শুটকি পল্লী।

শুটকি পল্লীতে কাজ করেন নানান শ্রেণীর মানুষ। রয়েছে শিশু, যুবক/যুবতি, বয়স্ক নারী-পুরুষ। সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫% মহিলা, ২০% পুরুষ ও ১০% শিশু শ্রমিক কর্মরত আছেন এই শুটকি পল্লীতে। শিশু শ্রমিক ১০০-১৫০টাকা, নারী শ্রমিক ২৫০-৩০০টাকা, পুরুষ শ্রমিক ৪০০-৬০০টাকার বিনিময়ে দৈনিক কাজ করেন।

কর্মরত শ্রমিক মাইমুনা আক্তার (৩২) বলেন, মালিকপক্ষ দৈনিক ২৫০-৩০০টাকা পর্যন্ত মজুরি দিয়ে থাকে। এখন খুব ভালোভাবে সংসার চালাতে পারি। তবে বছরের প্রায় ৭ মাস এই কাজ বন্ধ থাকে। তখন কোনো সময় দু’বেলা খেতে পায়, কোনো সময় উপোসে থাকতে হয়।

শুটকি পল্লীতে কর্মরত জাহিদ হাসান (১২) নামের এক শিশু শ্রমিক বলেন, আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৮জন। সকাল বেলা স্কুলে যায়, ফিরে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে কাজে যুক্ত হয়। পারিশ্রমিক হিসেবে দৈনিক ১০০-২৫০টাকা মজুরি পায়। তা দিয়ে আমার পড়ালেখার খরচ জোগাড় করি।

শুটকি পল্লীতে কর্মরত শ্রমিকের মজুরি বৈষম্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শুটকি ব্যবসায়ী জমির হোসেন বলেন, এখানে নানান বয়সের মানুষ কাজ করেন। যার কাজ যেমন, তাকে ঠিক সেই হাওে মজুরি প্রদান করা হয়। তবে সকল ক্ষেত্রে নারীদের দৈনিক মজুরি ২৫০-৩০০টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু পুরুষ শ্রমিকের মজুরি কাজ অনুযায়ী ৫০০-৬০০টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কেনো না, তারা শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের সমস্থ কাজই নিজেরা সম্পাদন করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে নানান ধরনের শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ করে শহরের খুচরা ব্যবসায়ী থেকে শুরু কওে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারী ব্যবসায়ীদের নিকট চালান করে দেওয়া হয়। অনেক সময় খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ী সরাসরি এসে নিয়ে যায়।

প্রিন্স, ঢাকা