সেইদিন আমরা আওয়ামী লীগের ফাঁদে পা দেইনি: ড: মোশারফ

 

নিউজ ডেস্ক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্র একটিও সফল হতে দেবো না। এরই মধ্যে প্রথম ষড়যন্ত্র আমরা ব্যর্থ করে দিতে পেরেছি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে সরকার ভেবেছিল, বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকায় নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবে। এজন্য আওয়ামী লীগ তাদের নেতাকর্মীদের লাঠি ও পেট্রোল বোমা দিয়ে সেদিন মোড়ে মোড়ে বসিয়ে রেখেছিল। তাদের বলা হয়েছিল, বিএনপি একটি গাড়ি ভাঙলে তোমরা একশোটি গাড়ি ভাঙবে। কিন্তু আমরা তাদের সেই ষড়যন্ত্র বুঝে ফেলেছি। আমরা তাদের ফাঁদে পা দেইনি। এরপরে আপনাদের (সরকার) গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট, আমরা ২ থেকে ৩ দিন হরতাল দেবো। আর আপনারা সেই হরতালে ভাঙচুর করে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবেন। এটাও আপনারা পারেননি।

রবিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়া, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

মোশাররফ বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার যে ধরনের পরিকল্পনা করছে, সেই ধরনের নির্বাচন এদেশে হতে দেয়া হবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সরকারের আচরণ দেখে এটা ভবিষ্যতে কি হবে তা জনগণই ঠিক করবে।

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার সরকারের উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার কারাবন্দি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতেই সরকার এই আনন্দ করছেন। কারণ উন্নয়শীল দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে আরও ছয় বছর লাগবে।

তিনি বলেন,বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে এখন গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না- জার্মানির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই বাস্তব প্রতিবেদন দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত লজ্জাকর একটি স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য নিয়ে এসেছে। এই স্বীকৃতির ফলে আমরা লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগ সরকার শুধুমাত্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে একটি স্বৈরাচারী দেশে পরিণত করেছে। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল না। আজকে স্বাধীনতা দিবসের আগে অবশ্যই এটা আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রও আজকে আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি।

মোশাররফ বলেন,আওয়ামী লীগ বলছে, এটা ভিত্তিহীন। ভিত্তিহীনভাবে বাংলাদেশকে স্বৈরাচারী দেশ হিসিবে চিহ্নিত করেনি। কিন্তু আমি বলতে চাই, ভিত্তি আছে বলেই করেছে। আমি এর একশটি প্রমাণের কথা বলতে পারবো। কিন্তু দেশ স্বৈরাচারী নয়, স্বৈরাচার উপাধিতে ভূষিত করার জন্য যার সবচেয়ে বড় অবদান তিনি হচ্ছেন, শেখ হাসিনা। সুতরাং এদেশে স্বৈরাচারী হচ্ছেন শেখ হাসিনা। বিশ্বের যে ৫০ জন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রীর তালিকা দেয়া হয়েছে, সেখানে শেখ হাসিনা কিন্তু হিটলারের উপরে স্থান নিয়েছেন।