সোভিয়েত ঠেকাতে পশ্চিমা মদদে ওয়াহাবিবাদের প্রচার

নিউজ ডেস্ক: ওয়াহাবিবাদীদের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের আজ সাপে-নেউলে সম্পর্ক। সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দাবি করেছেন সন্ত্রাসের আঁতুরঘর হিসেবে এখন যে ওয়াহাবিবাদীদের পশ্চিমারা দেখছে, তারাই এক সময় সমাজতন্ত্র ঠেকাতে এর প্রচারে উৎসাহিত করেছিলেন।

গত ২০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরুর পর ২২ মার্চ এক সাক্ষাৎকারে উক্ত দাবি তুলেন তিনি। তিনি বলেন, গত শতকের ’৭০ এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের সময় পশ্চিমারাই ওয়াহাবিবাদের প্রচারে অর্থ ঢালতে সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছিল। তার ভাষায়, মুসলিম দেশগুলো যেন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব বলয়ে চলে না যায়, সেজন্যই পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছিল। সেই অনুরোধে বিভিন্ন দেশে মসজিদ-মাদ্রাসায় অর্থ ঢেলে ওয়াহাবি মতাদর্শের বিস্তারে কাজ শুরু করে সৌদি আরব। অথচ ২০১৩ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ওয়াহাবিবাদকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসের আঁতুরঘর’ হিসেবে চিহ্নিত করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল পুরো বিশ্ব। ’৯০ এর দশকে সোভিয়েতের পতনের পর স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে। আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ে উগ্র মুসলিম গোষ্ঠীগুলোতে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে মদদ জোগানোর অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী; যাদের অধিকাংশই ওয়াহাবি দর্শনে দীক্ষিত, যাদের সালাফিও বলা হয়। মুসলিমদের প্রধান দুটি ধারার অন্যতম সুন্নিদের মধ্যে ওয়াহাবিবাদের গোড়াপত্তন অষ্টাদশ শতকে আরবের নজদ থেকে মোহাম্মদ ইবনে আবদ আল ওয়াহাবের মাধ্যমে। ওয়াহাব ছিলেন বার শতকের ইবনে তায়মিয়াহ দ্বারা প্রভাবিত; যিনি মনে করতেন, রাষ্ট্র হবে ধর্মের অনুগামী। ইবনে তায়মিয়াহ ছিলেন মুক্তমত চর্চার ঘোর বিরোধী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপে সৌদি আরব গঠন করে মসনদে বসে সউদ পরিবার; তখন তাদের সঙ্গে গাঁটছাড়া হয় ওয়াহাবিদের। রাজ পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় ছড়াতে থাকে ওয়াহাবিদের উগ্র মত।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক পরিসংখ্যান জানা যায়, পরমতসহিষ্ণু সুন্নিদের উগ্র ওয়াহাবিবাদে দীক্ষিত করতে ১৯৭০ থেকে চার দশকে ১ হাজার কোটিরও বেশি ডলার ঢালে সৌদি আরব। এই অর্থের ২০ শতাংশের মতো আল কায়দাসহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে যায় বলে ইউরোপের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে টেলিগ্রাফ জানায়। ওয়াহাবিবাদের প্রচারে অর্থায়ন যেভাবে শুরু হয়েছিল, তা পরে আর সৌদি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেনি বলে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের ভাষ্য। তিনি বলেন, এখন সরকারের বদলে সৌদি আরবভিত্তিক বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই অর্থায়ন হচ্ছে। যে কাজটি শুরু হয়েছিল সৌদি আরব থেকে, তাতে এখন বিক্ষত হচ্ছে তারাও। আইএস এর মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর আক্রমণের লক্ষ্যস্থল তারাও হচ্ছে। এর মধ্যেই নিজের তৎপরতার জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করে সৌদি যুবরাজের বক্তব্য এল। সৌদি আরবে ক্ষমতাধর হয়ে উঠে সংস্কার কর্মসূচিসহ নানা পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচিত যুবরাজ মোহাম্মদ।