শেষের লেখা

এম.এস প্রিন্স

চোখে দেথা পৃথিবী আর পৃথিবীর পথে হাঁটার গল্প-
যদি কভু থেমে যায় – চলে যায় দুটি দিকে
তাহলে মানুষ মানুষ হিসেবে তিক্ততায় ভরে ওঠে নিজের মাঝেই
আপনার কথামালা। আমি সেই সুখি মানুষ – যিনি সূর্য ওঠার
আগে ফুল ফুটাত তোমার নামে। তুমি ভালো থেকো – দেখে যেও
যদি কভু শোনতে পাও ফুল না ফুটিয়ে এখন আর পৃথিবীর
নতুন ঠিকানায় আমি।
লেখাতে বলেই আঁধারে হারিয়ে গেল রায়গঞ্জের রবি।
কত বসন্ত আসে পাখি ডাকে রাখালে বাজায় বাঁশি
কতজনা রুমালে সূঁই সূতোয় করে বাহারি নকশী।
আরো কত মাল্য বকুল মুকুল, হয় হোক শ’কথা ফোনে
চিঠির উপমাই সত্য অন্তর শিরা উপশিরায় নব-জাল বুনে
কত গুঞ্জনে প্রেমশাস্ত্র বিদ্যার ধ্যানে শেষ বিকেলে
প্রিয়র ছবি জলে আঁকে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে এলোচুলে।
আরো প্রাণ পায় গল্প বধূয়া মৃদু হাসি মুখে
পান-চুন-পানি আর ভাত তরকারি হাতে সবুজ লীরিকে
আইলে দাঁড়িয়ে প্রাণশক্তির প্রতিক নৃপতিকে ডাকে-
‘শুনছ! খাবার নিয়ে আসছি খেয়ে যাও।’
এই তো শেষ আর দু’মুঠ হবে তুমি একটু দাঁড়াও
বলে ধানক্ষেতের ঘাস তোলে হাত-পা ধুয়ে
খাবারে বসে ক্ষেতের কোনেই ডুবার পাড়ে। সবুজ নায়ে
পাল তোলা রম্য নাটক আরো কত গল্পের তরে
মুঠোর পর মুঠো ভাত দু’জনে দু’জনার মুখে পুরে।
তা দেখে ঘাসফড়িং- স্বাদ ছিল যা পেয়েছি বহুকাল পর
বলে ধান গাছ ছেড়ে এসে বসে থালার ওপর।
হিংসায় বধূয়া- কেনরে তোরে আগে দেখেনি জমে
লাফ দিয়ে ভাতে বসে কেন কাটা দিলে আমাদের প্রেমে?
বলে রাগে আক্রুশে ধরবার জন্যে যেই হাত বাড়ায়
অমনি প্রাণে বাঁচার আশে লাফ দিয়ে পালায়।
তবু রক্ষা নেই। শকুনের চোখে দেখে শালিক ছোঁ মেরে
দূর গাছের ডালে বসে খেল তারে নিয়ে ধরে।
এই দৃশ্য দেখিয়ে বধু মৃদু হেসে নৃপতির গালে
শালিক বাবা বিচার করেছে – খোঁচা দিয়ে বলে।
হায়রে মানুষ! বলে দীর্ঘশ্বাসে নৃপতি জবাবে কয়
জগতে প্রাণির প্রাণ প্রাণি নেয়া কোনো ভালো কথা নয়।
হাসো কেন কেন বাঁধো গল্পে ভিত্তিহীন অসত্যের নূর
ভুল বশে সে এসে ভেঙে দিল না-হয় মোহছায়ার ঘোর।
জবাবে বধু কিছু না বলে থালা সহ ভাত ধান ক্ষেতে ছোঁড়ে
বাড়ির পথে হাঁটে। নৃপতি পিছু শুধু শোন শোন করে।
ভাটিয়ালী সুরে মাঝি গান ধরে তরী বেয়ে চলে উজান
ভাইজান! এদিকে জাল ফেলা একটু দূরে দিয়ে যান
জেলে ডেকে বলে। মাথার ওপর ছাতা খোলে –
নদীর পাড়ে কলসী কাঙ্কে হাঁটা দেহের প্রসর
দেখে কবি হয়েছে কতজনা এনেছে কত মেয়ের বিয়ের ঘর
কেবলই আমি-ই এক ব্যতিক্রম এই ধরা তরে
যার দিকেই হাত বাড়াই বিয়ে ঠিক – কেউ বা আর ঘরে
আলো জ্বালে। বলে দীর্ঘশ্বাসে চোখের জল মুছে ফিরে নজর
ধীরে ধীরে টান দেয় যখন আঙ্গুলে বাঁধা জলে ফেলা জালের বর।
এখানেই তো শেষ নয় – এই মুক্তাকাশ তলে
কত জানা অজানা গল্প কত ঘটনা ঘটে চলে সময়ের তলে
ওসবে কিছিই তো তার লেখায় আসেনি
এসেছে যা, নিতান্তই তার শেষ গল্প-কাহিনী।

জীবন-যাত্রা পথের মাঝে এসে প্রেমের দানা
আর ধরায় বিলাবে এমন তো কোনো কথা ছিলনা
ছিলনা যত গান যত কথা যত সবুজ ভুলে
কবিতা গল্পের প্রাণ দিক বলে কথা আর ভূমণ্ডলে।
তবু রূপ বেধ বিধান পাল্টিয়ে নূর অন্তরজামী
আর পৃথিবীর কৃষকের বানিয়েছে ফসলী জমি।
তার দায় সয়ে নিতে না পেরে বিদায় নিল রবি
এখবর জানাতে মাঝে শুধু আমি পাথর কবি
তার লেখা, যত আরো অ্যালবামে করে পাঠিয়েছি রহিমপুর
কেউ না জানলেও আমি জানি ওখানেই ঘুমায় রবির নূর।

****
আমার বিশ্বাস যত আশা আশ্বাস
এই তার লেখা পড়ে সেই তার গান মনে করে একবার হলেও নূর
অদূরে ছাড়া বাড়ির বাঁশঝাড় তলে এসে দেখে যাবে রবির ঘুমঘোর।