শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক:  ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে নিজেদের ব্যাটিং ইনিংসে দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশ। পরতে পরতে রং বদলানো ম্যাচটি শেষের দিকে উত্তেজনায় রুপ নেয়। ডু অর ডাই ম্যাচটি জিততে মরিয়া বাংলাদেশ দলে তখন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। কিন্তু শেষ ওভারের পঞ্চম বলে একটি ছয় রুপ নেয় বাংলাদেশের জয়ে। ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ।

নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে খেলতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আজকের ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিলনা বাংলাদেশ দলের। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দলে ফেরা ম্যাচটিতে তাকে জয় উপহার দিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জয়ের জন্য মরিয়া বাংলাদেশ দল যখন বিপদে তখন অধিনায়কের মতই খেলে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। তার ১৮ বলে তিন চার ও দুই ছয়ের মারে ৪৩ রানের অনবদ্য ইনিংসের কল্যাণে জয় পেয়েছে অধিনায়ক সাকিবের দল।

নিদাহাস ট্রফিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হয়ে এসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শেষটিও শেষ করলেন জয় নিয়ে।

প্রেমাদাসায় আজ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে শুরুর দিকে তাড়াতাড়ি উইকেট চলে গেলেও রানের চাকা সচল রেখেছিল টাইগাররা। চোট থেকে ফিরে বোলিংয়ে এক উইকেটের দেখা পেয়েছেন সাকিব। তবে ব্যাটিংয়ে আজ সফল ছিলেন না টি টোয়েন্টি অধিনায়ক। ৯ বলে ৭ রান করে ইসুরু উদানার বলে ধনঞ্জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান এই অলরাউন্ডার। তার আউটের পর রিয়াদকে ঠিকভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি মেহেদী মিরাজও। সানাকার সরাসরি থ্রো’তে রান আউট হয়ে ফিরে যান তিনি। তারপর আবারও রান আউট। বোলার থিসারা পেরেরা নিজেই রান আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমানকে।

এদিন শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলেছে সাকিব বাহিনী। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট চলে গেলে ধীর লয়ে খেলেছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল খান। অর্ধশতক পুরণ করলেও দলের অতিগুরুত্বপুর্ণ সময়ে আউট হন তিনি। দুই ছয় ও ৪টি চারের মারে হাফসেঞ্চুরি করার পর তামিম সাজঘরে ফেরেন। গুনাথিকালার বলে কুসাল পেরেরার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বাহাতি ব্যাটসম্যান।

তামিমের আগে আউট হন মুশফিকুর রহিম। আগের দুটি ম্যাচে অর্ধশতক করা মুশি এই ম্যাচে বড় ইনিংস না খেললেও দলের জন্য তার ২৮ রান ছিল অতন্ত্য গুরুত্বপুর্ণ। আমিলা আপনোসোর বলে কুসাল পেরেরার হাতে ক্যাচ তুলে ফিরে যান তিনি। তার পর ক্রিজে এসে তেমন কিছুই করেননি সৌম্য। ১০ রান করে মেন্ডিসের বলে কুসাল পেরেরার হতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

নিদাহাস ট্রফির গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার করেছে ১৫৯ রান। ১৬০ রানের লক্ষ্যে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল খান ও লিটন দাস। তবে উইকেটে ভিত গড়ার আগেই সাজঘরে ফিরে গেছেন এ লিটন ও সাব্বির।
এদিন ধনঞ্জয়ের বলে থিসারা পেরেরার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান লিটন দাস। তিন বল খেলে শূন্য রান করেন তিনি। পরে ক্রিজে আসেন সাব্বির রহমান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভাল করেছিলেন তিনি। কিন্তু এবারও ব্যর্থ সাব্বির। বরাবরের মতই লড়াইয়ের আভাস দিয়ে সাজঘরে ফিরে যাওয়া। ওই ধনঞ্জয়ের বলে এবার কুসাল পেরেরার হাতে স্ট্যাম্পড হয়ে ফিরে যান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

আজ শুক্রবার কলোম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি শ্রীলঙ্কার। শুরুর দিকে অনবরত উইকেট হারালেও কুসাল পেরেরা ও থিসারা পেরেরার অনবদ্য ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যায় হাতুরুর শিষ্যরা।

এদিন কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বোলিংয়ে এসেই প্রতাপ দেখাতে শুরু করেন টাইগার বোলাররা। বোলিংয়ে এসে শুরুতেই উইকেট নেন সদ্য চোট থেকে ফেরা অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনিংয়ে নামা ধানুশ গুনাথিলাকাকে সাব্বিরের ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন সাকিব আল হাসান। গুনাথিলাকা ফেরার আগে করেন চার রান।

তিনি ফিরে যেতেই আঘাত হানেন দ্য কাটার খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান। কুশাল মেন্ডিসকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে ব্যক্তিগত ১১ রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। পাঁচ রানে থাকা উপুল থারাঙ্গাকে রান আউট করেন মেহেদী মিরাজ। তারপর আবার দ্য ফিজের আঘাত। শূন্য রানে থাকা দাসুন শানাকাকে উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিমের কট বিহাইন্ডে পরিনত করে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। উপুল থারাঙ্গাকে রান আউট করার পর ৩ রান করা অজান্তা মেন্ডিসকে মুস্তাফিজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি।

পরে সৌম্য সরকার বোলিংয়ে এসে কুসালকে ফেরান। সাজঘরে ফেরার আগে কুসাল করেন ৬১ রান। সাতটি চার ও একটি ছয়ের মাধ্যমে এ রান করেন তিনি। কুসাল পেরেরার পর অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন থিসারা পেরেরাও। তিন ৬ ও দুই চারের মারে মাত্র ৩৪ বলেই হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি।

তিনটি ছয় ও তিন চারের মারে ৫৮ রান করা থিসারা পেরেরাকে ফেরান রুবেল হোসেন। তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ বানিয়ে তাকে সাজঘরে ফেরারন রুবেল।