শাওন হত্যার বিচার দাবীতে উত্তাল ময়মনসিংহ, ৭ দিন পর মামলা

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আশফাক আল রাফী শাওন হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তির দাবীতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহ মহানগর। প্রায় প্রতিদিন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক অঙ্গনের মহানগর ছাত্রলীগ, জেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান, মৃতের পক্ষ থেকে মামলা না করায় পুলিশ আইনী ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অবশেষে হত্যার ৭ দিন পর কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে। হত্যার অভিযোগে সংগঠনের তিন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা শাওনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিলেন। তাঁরা হলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জয় দত্ত, ছাত্রলীগ কর্মী পিচ্চি আরিফ ও হিমেল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতার হওয়া তিনজন ময়মনসিংহের এক নম্বর আমলি আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। তখন পুলিশ তাঁদের আটক করে জামিন বাতিলের আবেদন করে। এরপর তাঁদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান আদালত। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল ইসলাম এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। আগামী ১৮ মার্চ রিমান্ডের শুনানির তারিখ ধার্য্য করে আদালত শাওনের মরদেহ তোলার আদেশ দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আশফাক আল রাফী শাওনকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয়েছে, ইতিপূর্বে হত্যার উদ্দেশ্যে শাওনের উপর যারা বোমা হামলা ও গুলি চালিয়েছিলো তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই শাওন হত্যাকারীর নাম বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবী করেছেন ।
মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা ময়মনসিংহ পৌর মেয়র ইকরামূল হক টিটু শাওনের খুনীদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছেড়ে যাবো না। শাওন হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে তিনি সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ারুল আলম নোমানের হত্যাকারী এবং যুবনেতা মাসুমের উপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবী করেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে শহরের জেলা পরিষদ অফিসের সামনে শাওন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন তাঁকে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ৮ মার্চ দুপুরে ওই হাসপাতালেই মারা যান শাওন।

শাওন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই তিনজনকে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ না থাকায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাঁদের আদালতে চালান করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্ত হন তাঁরা। পরে গত ১৫ মার্চ কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন এস.আই পলাশ।