দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

 

নিউজ ডেস্ক : নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে পাইলটের ত্রুটিকেই প্রধান হিসেবে দেখছে ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে এ দুর্ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সন্ত্রাসের যোগসূত্র আছে বলে মনে করেন না স্থানীয় গণমাধ্যম জনতাপোস্টের ফটোজার্নালিস্ট সরজ বাসনেত। তিনি আমাদের সময়কে জানিয়েছেন, ‘বৈরী আবহাওয়াই একমাত্র কারণ’।

ঢাকা থেকে ফ্লাইটটি নেপালের উদ্দেশে ছেড়ে গিয়েছিল। রানওয়ের কাছে একটি ফুটবল মাঠে সেটি বিধ্বস্ত হয়। আগুন ধরে যায় গোটা বিমানে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধারকাজে যোগ দেয় নেপালের সেনাবাহিনী।

ঠিক কী কারণে বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হলো, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়। যদিও ব্লাকবাক্স উদ্ধার করা হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। আলজাজিরা জানিয়েছে, ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার জন্য পাইলটকেই দুষছে। টিআইএর জেনারেল ম্যানেজার রাজকুমার ছেত্রি বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, পাইলট তা না মেনে ভুল দিক থেকে বিমান অবতরণ করছিলেন।

ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ কন্ট্রোলরুম থেকে পাইলটকে ভুলবার্তা দেওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। তারা বলছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ একেকবার একেক নির্দেশনা দিচ্ছিল, যে কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের পাইলট আবিদ সুলতান বিমানবাহিনীতে ছিলেন। ১৭ হাজার ঘণ্টা ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিআই) থেকে পাইলটকে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ায় টেকনিক্যাল গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। আমার মনে হয় না, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল। ইতোমধ্যে কন্ট্রোল রুম এবং পাইলটের কনভারসেশন ইউটিউবে এসেছে।

এদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উড়োজাহাজে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। এটা দুর্ঘটনা। তিনি বলেন, গত তিন বছরে ইউএস-বাংলা ৩৬ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে কোনো ত্রুটি ছাড়া। এ ফ্লাইটটিতেও কোনো ত্রুটি ছিল না। এটি একটি দুর্ঘটনা। নেপালের সিভিল এভিয়েশন দুর্ঘটনার কারণ জানতে কাজ করছে। আর ব্ল্যাক বাক্স উদ্ধার করা হয়েছে।