মৃদু অভিপ্রায়

আলফ্রেড খোকন

আজই প্রথম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কোকিলের ডাক শোনা গেল;
এই ডাক রুটিনমাফিক,
তাতে কোনো ব্যাকুলতা নাই।
দৃশ্যত বেসরকারি উদ্যোগে যেসব বনজঙ্গল বেড়ে ওঠে
সেসব জায়গা থেকে যখন কোকিলের ব্যাকুল কণ্ঠস্বর কানে আসে
তাতে ফাল্গুন-চৈত্রের প্রতি একধরনের তীব্রতা বেড়ে যায়।
আজ সকালে যখন অফিসার্স কোয়ার্টারের ভেতর দিয়ে
রমনার দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম
তখনই কলোনির সুউচ্চ ইউক্যালিপটাসগাছের মগডালে
একটি কোকিলের মৃদু অভিপ্রায় টের পাই;
কিন্তু এই অভিপ্রায়ের মধ্যে চোখের পলক পড়তেই
অন্য এক আকর্ষণিয়া আমার মনোযোগ কেড়ে নেয়।
তার প্রতি মনোযোগ দিতে গিয়ে
হঠাৎ কোকিলকে হারিয়ে ফেলি।
আপনারা তো জানেনই কোকিল বেশ চতুর পাখি,
তা না হলে কি অন্যের বাসায় ডিম পেড়ে আসে!
যখনই সে টের পায় তার প্রতি কারও মনোযোগের,
মুহূর্তেই চুপটি মারে পাতার আড়ালে
ফাঁকি দিয়ে অন্য ডালে চলে যায় চোখের পলকে।
এ বাগানে আমরা যতই খুঁজতে থাকি,
পাশের বাগান থেকে শোনা যায় তার রাগত স্বর;
আবার কোকিলের জন্য মনোযোগ প্রতিস্থাপন করতেই দেখি—সে নেই!
পৃথিবীতে এই হয়—
মনোযোগের মৃদু অভাব পেলেই
পৃথিবীর সব আকর্ষণিয়া সন্তর্পণে বাঁক নেয় ধু ধু গলিতে।
তখন আমিও হারিয়ে ফেলি তাকে—
আজ প্রত্যুষে ইস্কাটন গার্ডেনের সরকারি কোয়ার্টারে
কোকিলের ডাক শোনার পর এমনই মাশুল দিতে হলো,
একটি পলক ছোঁ মেরে নিয়ে গেল ঢেউ, গভীর তরঙ্গ-মৃদু অভিপ্রায়িকাকে।