শিক্ষকের লালসায় স্কুল ছাত্রী

All-focus

দাকোপ প্রতিনিধি: খুলনার দাকোপ উপজেলায় গুনারী শীতল চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শশাংক সানার বিরুদ্ধে ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের গুনারী শীতল চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে গত রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঘটনাটি ঘটেছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ। গত শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসি বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ ঘটনায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ০৪, তারিখ- ০৮.০৩.১৮।

সরেজমিনে দেখা যায়, এর প্রতিবাদে অভিভাবক ও এলাকাবাসি বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। তাঁরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কাকলী গোলদারকে অপসারণের দাবি জানিয়ে অভিযোগ করেন। এর আগে অভিযুক্ত শিক্ষকের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন তারা। অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দূর্নীতির কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একের পর এক এধরণের অপরাধ করেই চলেছেন।

সুত্রে জানা যায়, রোববার বেলা আড়াইটার দিকে সহকারি শিক্ষক তার শরীর ম্যাসাজ করার জন্য ওই ছাত্রীকে অফিস কক্ষে ডেকে নেয়। তখন স্কুলের শেষ বিষয়ের ক্লাশ থাকায় অন্য কোন শিক্ষক অফিস রুমে ছিলেন না। এ সুযোগে সহকারী শিক্ষক শিশুটির শ্লীলতাহানি ঘটায়।

ছাত্রীর বাবা জানায়, সেদিন স্কুল থেকে ফিরে এসে মেয়ে আর ভাত খায়নি এবং গম্ভীর ছিল। পরদিন মেয়ে বলে, আমি আর স্কুলে যাব না। তখন মেয়ে সব খুলে বলেন। তারপর থেকে লজ্জায় ও অপমানে শিশুটি আর স্কুলে ও প্রাইভেটে পড়তে যায় না।

ঘটনার সব বিবরণ তুলে ধরে ওই ছাত্রী বলে, স্যার ১০ দিন আগে থেকে আমাকে দিয়ে তাঁর হাত-পা চেপে নেয়। সেদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার সাথে খারাপ কিছু করলে আমি চিৎকার দিলে আমাকে ছেড়ে দেয়। আর আমি স্কুল থেকে বাড়ি চলে আসি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নিমাই চাঁদ মন্ডল বলেন, উক্ত শিক্ষক যা করেছে সেটি খুবই খারাপ কাজ। সমাজে শিক্ষকেরা যদি এ ধরণের কাজ করে তাহলে সেটি জাতির জন্য অত্যন্ত দূর্ভাগ্য। আমরা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি একটি আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এবিষয়ে জানার জন্য সহকারি শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে কোন সংযোগ মেলেনি।

ঘটনা সম্পর্কে মুটোফোনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কাকলী গোলদারের কাছে জানতে চাইলে। তিনি বলেন, আমি এবিষয়ে শুনেছি। তবে আমার অফিস কক্ষে ঘটেছে কিনা তা আমি দেখেনি।

থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাছুম বিল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে মোবাইল ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন। পরে আবার চেষ্টা করলে তিনি জানান, একটি সভাতে আছি সভা শেষ না করে কথা বলতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রিন্স, ঢাকা