বেহেশতী জেওর 

মাহবুব এলাহি

মহুয়াঃ সাত- সকালে কোথায় যাচ্ছ?
বরঃ ব্যায়াম করতে।
মহুয়াঃ আজ ব্যায়াম করতে হবে না, ছুটির দিনে একটু আরাম কর, আমি খিঁচুড়ি রান্না করতে গেলাম।  আরো পরে বের হও,           আমার কিছু বাজার আনতে হবে।
বরঃ আচ্ছা কি কি লাগবে বল।
মহুয়াঃ আমার জন্য একটা বেহেশতী জেওর বই এনো, বাজারের কথা পরে বলব।
বরঃ কেন কি জানতে চাও আমাকে বল? আমি যথেষ্ট হাদিস জানি
মহুয়াঃ না, তোমাকে বলা যাবে না। আমি বই থেকেই জেনে নেব।
বরঃ (বিড়বিড় করে আপন মনে ভাবছে, কি এমন জানতে বা শিখতে চাইছে, যা আমাকেও বলতে চাইছে না)
      আচ্ছা এনে দিব, তবে একটা শর্ত আছে।
মহুয়াঃ না, এখন না, সব শর্ত রাতে পূরণ কইরো। তবে বই টা না এনে দিলে, রাতে শুইতে দেব না। তুমি ওই ঘরে, আর আমি          এই ঘরে ঘুমাব, বলে দিলাম কিন্তু।
বরঃ ও মাই গড, যাচ্ছি যাচ্ছি এখনি যাচ্ছি।
মহুয়াঃ (হাসতে হাসতে কবি’র চলে যাওয়া দেখছে আর পিছন থেকে) জলদী চলে এসো কিন্তু।

বিকেলে কবি বাজার থেকে ফিরলে মহুয়া তার বই টি চায়।
মহুয়াঃ বেহেশতী জেওর এনেছ?
বরঃ না, আনতে মনে নেই।
মহুয়াঃ ঠিক আছে, রাতে মজা দেখাব।
বরঃ না থাক, আজ শরীর টা ভালো নেই, মজা নিবো না আজ আর।
মহুয়াঃ (মহুয়া কবি’র দিকে তেড়ে আসবে) তবে রে শয়তান দেখাচ্ছি দাঁড়া।
বরঃ (বই টি হাতে নিয়ে দেখাতে দেখাতে কবি দৌঁড়ে পালাবার এক্টিং করে, আস্তে করে দৌঁড়াচ্ছে যেন সহজে মহুয়া কবিকে              ধরতে পারে)
মহুয়াঃ (হাঁফাতে হাঁফাতে) উফ, দাও তো এবার।
বরঃ আমার শর্তের কি হবে?
মহুয়াঃ (ভেঙচিয়ে বই নিয়ে ননাসের ঘরে)

আছর পড়ে মহুয়া বইটি নিয়ে কি যেন খুঁজছে, বর তা আড়াল থেকে দেখায় প্রচেষ্টারত।
কিছুক্ষণ পর বুঝা গেল সে যা খুঁজছে, সেটা পেয়ে নিমগ্ন হয়ে পড়ছে, বর ঠাহর করতে পারছেনা অধ্যায় টা কি? সে কি জানতে এতো মনোযোগী হয়ে পড়ছে। নিঃশব্দে বর পিছন থেকে গিয়ে অবশেষে তার কুলকিনার ধরলো। মহুয়া যে অধ্যায় টি মন দিয়ে দেখছে সে অধ্যায় টি হল- “যে পুণ্য করলে পরকালে স্বামীর দেখা মিলবে।”
বরটি কিছুক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে রইল, ততক্ষণে মহুয়া টের পেয়ে বই টি তে চুমো দিয়ে বন্ধ করে পিছু ফিরলো।
বরে’র ছলছল চোখে তাকিয়ে মহুয়াও আপ্লুত প্রায়।বরটি জানে মহুয়া তাকে কতোটা ভালবাসে।
তবুও তার আজকের গভীরতা দেখে নিজেকে আরো একবার ধন্য মনে করলো।বর নিজেকে সংবরণ করতে না পেরে মহুয়া বুকে টেনে নিলো।

বরঃ (কথা বলতে পারছে না)।
মহুয়াঃ প্লিজ এমন করে না পাখি টি।