বধু হত্যা নয়দিন পর মামলা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরে বন্যা পাহাড় নামক এক গৃহবধু’কে পিটিয়ে হত্যার ৯ দিন পর আদালতে মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ ২০১৮) বন্যা পাহাড়ে’র দেবর মোঃ দেলোয়ার হোসেন পাহাড় বাদী হয়ে আঃ ছাত্তার পাহাড়, সমীর কিশোর দে, রাশেল পাহাড়, বাবুল দে ও মিল্টন দে’কে আসামী করে শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করে। ঘটনার ৯ দিন পরেও পালং মডেল থানায় বাদী পক্ষ মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা করে বলে জানাগেছে।

মামলা-বাদী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) রাত ৮ টার দিকে শরীয়তপুর জেলা কারাগার সংলগ্ন পাকা সড়কে পাওনা টাকা চাওয়ায় বন্যা’কে মারধর করে উত্তর বালুচড়া গ্রামের মৃত হারুন অর রশিদ পাহাড়ের ছেলে ছাত্তার পাহাড়, নুরুল আমিন পাহাড়ের ছেলে রাশেল পাহাড় এবং ধানুকা গ্রামের মৃত কানাই লাল দে’র ছেলে সমীর কিশোর দে, বাবুল দে ও মিল্টন দে।

অসুস্থ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) বন্যাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল সহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে বন্যা’র চিকিৎসা, অস্ত্রপাচার চলে ও আইসিইউ’তে রাখা হয়। অবশেষে গত রোববার (৪ মার্চ) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধানমন্ডি জেনারেল ও কিডনি হাসপাতালে বন্যান মৃত্যু হয়। পালং মডেল থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় গত বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করে বন্যা’র দেবর মোঃ দেলোয়ার হোসেন পাহাড়।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। নিহত বন্যা আসামীদের কাছে অনেক টাকা পায়। পাওনা টাকা চাওয়ায় ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ব্রীজের সাথে ঢু-দিয়ে জখম করে বন্যাকে। বন্যা’র আত্মীয়-স্বজনরা সদর হাসপাতাল সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতলে চিকিৎসা, অস্ত্রপচার করায় এবং আইসিইউতে রাখে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বন্যার মৃত্যু হয়। আসামীদের প্রভাবের কারণে বাদী পক্ষ থানায় মামলা করতে পারেনি। তাই গত বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বন্যা’র দেবর বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা করে। আদালত বাদীর ২’শ ধারার জবানবন্দী রেকর্ড করে। মামলাটি এখন আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

মামলার বাদী (মোঃ দেলোয়ার হোসেন পাহাড়) বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টার দিকে পাওনা টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে আসামীরা বন্যাকে ডেকে নেয়। তখন বন্যার সাথে তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে আশা ছিল। শর্ত মেনে টাকা ফেরত না দেয়ার বন্যা’র সাথে আসামীদের কথা কাটাকাটি হয়। উত্তেজিত হয়ে আসামীরা বন্যাকে বেদম মারপিট করে।

রাতে বন্যা’র অবস্থা খারাপ হতে থাকলে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করে এবং ওই দিনই চিকিৎসক বন্যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার রাত ৮ টা ২০ মিনিটে ধানমন্ডি জেনারেল এন্ড কিডনি হাসপাতালে বন্যা’র মৃত্যু হয়। তাই আমি (মোঃ দেলোয়ার হোসেন পাহাড়) ন্যায় বিচারের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

প্রিন্স, ঢাকা