কাপালিকের দেশে, (ছোট গল্প) সাইফ শোভন

কাপালিকের দেশে
সাইফ শোভন
মোবাইল: ০১৭১৫০৬৩৯৫৬, ১১ শান্তিবাগ-মালিবাগ- এ-৫, ৬ষ্ট তলা-ঢাকা-১২১৭.
সান্টু হঠাৎই আচমকা ঘুম থেকে উঠে মনে মনে ঠিক করে নিল শীতের সকালটা হেটে আসলে কেমন হয়। যেই ভাবনা সেই কাজ, হাটতে বেরুলো, যথারীতি সংগে লালু ও পুষি। স্বভাবসিদ্ধ গোচের সান্টু, লালু ও পুষিকে নিয়ে লেকের ধারে লোকের ভীর দেখে মনে কৌতুহল এর উদ্রেক। যা হোক সামনে এগুতেই কানে ভেসে আসলো কারা যেনো কতগুলি পাখীর বাচ্চা মেরে ফেলে রেখেছে।
সান্টুর স¦ভাব বশ:তই উচ্চারণ এগিয়ে দেখা যাক। ভীর ঠেলে ঠুলে দেখে সত্যিই কতকগুলি পাখী মরে পরে আছে। দু:খ হল সান্টুর। জিজ্ঞেস করলো কিভাবে এটা ঘটলো। একজন বয়স্ক পাশের এক ছোকড়াকে জিজ্ঞেস করায়, ছোকড়ার উত্তর আমি স্যার দেখেছি, কি দেখেছিস। জি¦ স্যার ঐ পাখী গুলানরে কারা মারছে। আজ সকালে কতকগুলি পাখী হাতে এক শক্তিশালী উচা লম্বা মোচ আছে স্যার, পড়নে চকরা বকরা কাপড়। দেখী পাখী কাচা ছিলাইয়া খাইতাছে স্যার। বেশ কয়টা খাওয়ার পর আর না খাইতে পাইরা ঐ গুলি মাইরা ফালাইয়া থুইয়া গেছে স্যার। আমি তহন রাস্তার এই পাশ থেইক্কা আড়াল কইড়া দেখছি। একবার আমারে দেইখা ফালাইছিল। সান্টুর কৌতুহল কন্ঠে জিজ্ঞাসা লোকটা তারপর গেল কোন পথে। স্যার ঐ ডান পাশের রাস্তায় কিছুক্ষন হাঠতে দেখলাম তারপর নাই স্যার।
সান্টু আবার ভীর ঠেলে ঠুলে একাকী হাটতে হাটতে কিছুটা ভেবে নিল এর কারনটা কি ? যা হোক কিছুদুর হেটে আবার ঐ স্থানে এসে ঐ ছোকড়াকে ডেকে বললো, তুই আমার বাসাটা চিনিস এখান থেকে অল্প কিছুদুর বাসা-২৯, বøক-বি, রোড-৪। তুই কাল সকালে এখানে নিয়ে আসবি আমাকে কেমন। সান্টু বাসায় ফিরে যায় সংগে লালু ও পুষি। লালু সান্টুর সেই প্রীয় পোষা কুকুরটি আর পুষি হলো পোষা বেড়ালটি।
পরদিন সকালের কথা ভেবে সে বেশ পুলকিত বোধ করে। এবার একটা মজার ঘটনা পাওয়া গেল। উদ্ধার পাওয়া
যাবে ঘটনাটির। পরদিন সকাল আর হয়নি। ঐ দিন রাত্রেই হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। প্রচন্ড বাতাসে জানালাগুলি কাপছে এবং পাল্লাগুলি জোরে এসে কপাটের সাথে ধাক্কা খেয়ে প্রচন্ড জোড়ে শব্দ হচ্ছে।
সকালে উঠে ¯িøপীং ড্রেস ছেড়ে পেন্ট শার্ট পড়ে নেয়। জুতার ফিতা বাধতে বাধতে হঠাৎই দেখতে পায় কে যেন ছায়ারমত জানালার ও পাশ দিয়ে হেটে যায়। সে দৌড়িয়ে জানালার পাশে যাওয়া মাত্রই চিৎকার শুনতে পায় ঐবষঢ় সব. আর লালু ও পুষির চিৎকার তো ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দরজা খুলে দৌড়াতেই বাইরে এসে আর চিৎকার শুনতে েপায় না। তবে একটা আলো দেখতে পায় সান্টু। আলোর পিছু নেয়। রাস্তার এ গোলি ও গোলি এ রকম করে প্রায় হাফ কিলো গিয়ে থেমে যায় আলো। পাশেই কিছু বৃক্ষ পরিবেষ্টিত বনের পরিবেশ। সেখানেই আলো ঢুকে যায়। সান্টু তবুও পিছু হটেনি, পিছনে লেগেই রয়েছে, চিরাচিরায়ত নিয়মের মতোই যা ওর স্বভাব এ একদম গেঁথে গেছে। কোন কিছুর চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত থামা নেই। ঢূকে পড়ে বনের মধ্যে, আলো কিছুদুর গিয়ে থেমে যায়। আৎকে উঠে সান্টু, নাছোড়বান্দা সান্টু, কিছুদুর সামনে গিয়ে আলোর সন্ধান করে। কিন্তু আর পাওয়া যায়নি। যা হোক হঠাৎই আবার চিৎকার ঐবষঢ় সব. চিৎকার শুনে সান্টু, দৌড়ে এগিয়ে আসে, বিরাটকায় গর্ত তার ভিতর থেকে চিৎকার ভেসে আসছে। অন্ধকার আলোতে দেখা গিয়েছিল, কিন্তু এখন আর দেখা যায় না। পকেটে হাত রাখতেই ছোট লাইট পেয়ে গেল, যা ওর সব সময়ই পকেটেই থাকতো। লাইট জ¦ালিয়ে গর্তে ঢুকে পড়লো সান্টু। সান্টুর আর বনের গর্তের ভিতর যাওয়া হয়নি সেদিন। ফিরে যায় সে, ঘরে ফিরে লালু ও পুষিকে পহাড়ায় রেখে আবার ঘুমে চলে যায় সে। কিন্তু ঘুম যে চোখে আসেনা। কি ঘটলো সেটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে যায় সে।

সান্টু সকালে উঠে দেখে যে সে উল্টো অবস্থায় শুয়ে। সকালে আর সেদিনকার মতো না খেয়ে বেড়িয়ে পরলো বন্ধু পিন্টুদের ওখানে। পিন্টুর সাথে পরামর্শ করতে হবে। সকালে হেটে হেটে রওনা হয়ে যায় সে। পিন্টুকে যথারীতি না পেয়ে ফিরতে সময় রাস্তায় দেখা হয়ে যায় তার সাথে। কি ব্যাপার তুই বাসায় আসবি তো একবার ফোন করলেই পারতি। গত রাতে কি আজব সব ঘটনা ঘটলো তোকে তো বলাই হয়নি। তো ভাবলাম সকালের হাটাটাও হয়ে যাবে আর তোর সাথে পরামর্শটাও হয়ে যাবে। পিন্টুকে উদ্দেশ্য করে বাসায় চলে যায় তারা। ইতিমধ্যে লালু ও পুষি কখন বাইরে চলে গেছে কেইবা জানে।
সান্টু যখন বাসায় চলে আসে অমনি কোত্থেকে জোড়া দুটি হাজির। সঙে ঘেউ ঘেউ, মিউ মিউ তো রয়েছেই। পিন্টুকেনিয়ে বাসায় ঢুকেই দরজা খোলা রাখার জন্য একচোট বকাবকি সেরে ফেলে লালু ও পুষিদের সংগে।
পিন্টুকে নিয়ে যায়  পাশের বেড রুমে। খুলে বলে সব ঘটনা। রাতের সেই আলোর প্রবেশ, জানালার প্রচন্ড জোড়ে শব্দ হতে থাকা ইত্যাদী। তারপর এমনি করে খুলে যাওয়া। আবার আলো যখন মিলে যায় ঠিক তখন ওর ফিরে আসা এই সব, পিন্টু শুনে তো হকচকিয়ে যায়। তোর এখানে এতসব কান্ড কারখানা আগে তো ঘটেনি এরকম কিছু। আরে মজার মজার কান্ড ঘটে গেলো, আমি নিজেই তো অবাক বিস্ময়ে দেখলাম সবকিছু। কি করা যায় বলতো। যা হোক, পিন্টু ওকে সান্তনা দেয়। আজ রাতে তুই আমার এখানে থাকবি। দুজনে মিলে ভেবে চিন্তে একটা কিছু করা যাবে।

না সান্টু, আমার কাজ রয়েছে আজ না আরেকদিন। কিন্তু যদি আজ রাত্রে আবার সেরকম কিছু ঘটে তাহলে, তুই সামলে নিস কেমন। পিন্টু চলে যায়। সান্টু ভিরু কাপুরুষ নয় যে সে ভয় পাবে। সে তার মতো, নিত্য দিনের মতো কাজে চলে যায়। সারাদিন অফিসে কাজ করে ক্লান্ত হয়ে বাড়ী ফিরে। রাত্র তখন ৮টা। যাক রাত্রের ডিনার সেরে ঘুমুতে যাওয়ার পুর্বে শারলোক হোমসের বইখানাটা সংগে নিয়ে পড়ে যেতে থাকে। নিত্য দিনকার মতো। ঐ রাত্রে অবশ্য তেমন কিছুই ঘটেনি। সান্টুর বাসায় বা তার আশে পাশে। সান্টু পরদিন সকালে পিন্টুর নাম্বারে লাগাতেই, হ্যালো হ্যালো কি ব্যাপার, সান্টু বলছি। পিন্টু বলে যাক কি খবর? রাত্রে কিছু ঘটেছে না কি। না তেমন কিছুই ঘটেনি।
অবশ্য খুব সকালে একটা শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম, শব্দটা ডান দিক থেকে ভেসে আসছিল। আর তেমন কিছুই শুনতে পাওয়া যায় নাই। যাই হোক আজ রাত্রে সম্ভব হলে তুই আমার এখানে আশিষ। আমি সব ব্যাবস্থা করে রাখবো। এই যেমন ডিনার। সান্টু অফিসে রওনা হয় নিত্যদিনকার মতো। হঠাৎই দেখা হয়ে যায় সেই কিশোর ছেলেটির সংগে।

কি ব্যাপার তোর তো আর পাত্তা নেই। স্যার আজকে সকালেও আবার সেই জায়গায় স্যার, ঐ লোকটারে দেখছি
স্যার। আইজকা স্যার আরও বিকট অসস্থায়। তবে স্যার সংগে কোন পাখীর বাচ্চা দেখি নাই। লোকটা বেশীক্ষন
থাকে নাই। স্যার ঐ খানে অল্প কিছুক্ষন বসে আবার চলে যায় স্যার।
শোন তুই থাকিস কোথায় । স্যার ঐ বস্তিতে স্যার। শোন তুই আজ রাত্রে আমার এখানে থাকবি। রাত্রে যাবি আমার এখানে। সান্টু অফিসে চলে যায়। সারাদিন অফিসে বিভিনড়ব ডকুমেন্ট, ¯øাইড দেখে পুরাতন ফাইল পত্র ঘেটে যে দুই একটা এরকম কেইস পাওয়া যায় তাও আবার এই ঘটনার সাথে কোন মিলই নেই। সম্পুর্ন নতুন ধরনের এই ঘটনা। যার কারনে সান্টুর আগ্রহ আরও বেড়ে যেতে থাকে। সান্টুর বসের সাথে এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশী আলাপই করতে পারে নাই। কারন বস ঐ ঘটনাটা কোন রকম পাত্তাই দেয় নাই। ঘটনাটা অবিশ^াস্য বলে উড়িয়ে দিয়েছে সান্টুর বস।
সান্টু চিন্তায় পড়ে যায়, কি করে প্রমাণ করতে পাড়ে ঐ ঘটনাটা। যাতে করে সান্টুর বস বিশ^াস করে। এই ভাবে সারাদিন চলে যায়। ঐ দিন রাত্রে পিন্টু চলে আসে। আবার কিশোর ছেলেটিও চলে আসে। রাত্রে ডিনার সেরে কিশোর ছেলেটির সংগে আলাপ সেরে ফেলে। সকালে সে যেন তাদের সেই স্থানে নিয়ে যায়। নাম জানা যায়, সুজন নাম ছেলেটির।
রাত্রে অনেকক্ষন আড্ডা মেরে সান্টু পিন্টু দুজনই ঘুমিয়ে যায়। খুব সকালে সুজনের ঘুম ভেঙে যায়। স্যার স্যার উঠেন যাইতে অইব ঐহানে। সান্টু এক লাফে উঠে কাপড় চোপড়, যথারীতি আলো এবং অন্যান্য সামগ্রী যেমন রিভলবার প্রভৃতি সংগে নেয়। পিন্টুকে উঠিয়ে তৈরী হতে বলে। সুজন তাদের নিয়ে যায় সেখানে, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ঐ দিন আর ঐ লোকটি সেখানে আসে নাই। এভাবে বসে থাকে প্রায় আধ ঘন্টা। কোন হদিস নেই লোকটির।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে আসে তারা, সুজনকে কি বলবে তারা। সুজন তো আর মিথ্যা বলতে পারে না। যা হোক এভাবে কয়দিন চলে যায়, সেই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর দেখতে পাওয়া যায় নাই। তবে সুজনকে সে বলে রাখে, সে যেন দেখা মাত্রই তাকে খবর দেয়। যাতে কওে সে তৎক্ষণাতই প্রতিμিয়া দেখতে পারে।
হঠাৎ একদিন রাত্রে সান্টু আবার সেই বিকট শব্দ, আলোর ঝলকানী প্রভৃতি দেখতে পায়। সান্টু প্রস্তুতি নিয়েই আছে।
সে ছাড়ার পাত্র তো নয়ই। বেড়ীয়ে পড়ে সান্টু লালু ও পুষিকে নিয়ে সংগে তার সবকিছু, যা তার সবসময়ই সংগে থাকে। আলোর পিছু পিছু সেই বনের মধ্যে ঢুকে পড়ে, সেদিন বনের মধ্যে আলো পড়তেই যেন আরো জোড়ে শব্দ আর বাতাসের বেগ যেন বেড়ে যেতে থাকে। এইভাবে আলোটার সাথে সাথে অনুসরণ করে সান্টু। গর্ত ঢুকে পড়ে আলো। সান্টুও ঢুকে পড়ে গর্তের ভিতর। অন্ধকার গর্ত আলো আর
অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারনা হয় কিছু বাদুড় (প্রকান্ড বড় ধরনের উদ্ভট) অনেক কিচিড় মিচিড় করে তাকে অতীষ্ট করে তুলে। এই অবস্থায় সে নিজেকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করে। খানিকটা সামনে চলে যায় সে, হঠাৎ বিশাল দেহী এক ভয়াবহ মূর্তীর তার ধসামনে এসে হাজির। তাকে বার বার অμমন করার চেষ্টা করছে। এই অবস্থায় সান্টু পিস্তল বের করে এবং পর পর দুইবার ফাকা আওয়াজ করে। তাতে সেই অদ্ভুত লোকটির কোন রকম গায়েই লাগেনি। সে আরও প্রচন্ড বেগে তাকে আμমন করতে আসে। এই ভাবে চলে কিছুক্ষন। সান্টু তাকে বাগে আনতে চেষ্টা করে। কিন্তু তার আর কোনো উপায় হয় না।
কোন রকমে সে প্রাণে বেঁচে সেদিন গুহা থেকে বের হয়। তার পর সে ফিরে আসে তার বাসায়। পরদিন কিশোর
সুজনকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করে, কি রকম দেখতে লোকটিকে, যাহোক বিবরণ শুনে লোকটি যে গুহার লোক তা নিশ্চিন্ত হওয়া গেলো। আমি ঐ লোকটির সন্ধান পেয়েছি। তুই যদি রাজি থাকিস তো আমার সংগে যেতে পারিস। যেই কথা সেই কাজ রাজি হয়ে যায় সুজন। চলে সান্টুর সাথে। সান্টু রওনা হয়ে যায় । তার সমস্ত পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান করে যথারীতি লাইসেন্স ধারী পিস্তলটিও। সুজনকে দড়ি এবং পাথড় কাটার যন্ত্র দিয়ে রাখতে বলে। যাতে প্রয়োজনের সময় ঐ গুলি কাজে লাগে। এভাবেই রওনা হয়ে যায় সুজন এবং তার বস সান্টু। মিনিট ১৫ পরেই পৌছে যায় সেই বনে। যথারীতি তার করোলা গারিটিতে সব ধরনের সাজ সরঞ্জাম সহ সুজনকে নিয়ে হাজির হয়। বনের মধ্যে ঢুকে পড়ে। কিছুদুর গিয়ে সেই গুহাটির সন্ধান পায়। সোজা সুজি ঢুকে পড়ে সেই গুহাটির ভিতর। গুহাটির কিছু পরিবর্তন লক্ষ করে সান্টু। ঠিক মাঝখানে যে পাথরটিকে দেখেছিল আজ আর সেই পাথরটি সেখানে নেই।
গুহার ভিতর যেতেই থাকে কিন্তু সেই রকম ভৌতিক পরিবেশ আজ আর নেই। সান্টু সুজনকে জিজ্ঞেস করে এরকম পরিস্থিতিতে কখনো পড়েছে কি না। সুজনের সরাসরি উত্তর না এরকম পরিস্থিতিতে সে কখনো পড়ে নাই। না এরকম অভিজ্ঞতা আমার নাই। যা হোক সুজন খুব সাহসী ছেলে। সে বলে, সে নিজেকে সাহসী হিসাবেও দাবী করে। গুহার ভিতরে বেশ চওরা যায়গা যা একটা তেতলা বাড়ী বানানো যাবে। নীচের একটা স্থানে কিছুটা পানি জমে আছে।
লেকের মত, কিছুদুর এগুতেই দেখে পানি বুদবুদ আকারে গরম হাওয়া উঠছে। একাবারে গরম পরিবেশ, সেটা
ডিঙিয়ে কোনমতো ঘেষে তারপর পৌছে যায় সেইখানে। সেইস্থানটিতে ঐ বিশালদেহী লোকটাকে সেদিন সে
দেখেছিল।