গৌরীপুরে প্রকৌশলীকে মারধোরের ঘটনায় দুই চৌকিদার বরখাস্ত ॥ মামলা নিয়ে গড়িমসি

অফিস তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে চৌকিদার মামুন

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনের উপসহকারী প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলামকে মারধোরের ঘটনায় প্রকৌশল কার্যালয়ের চৌকিদার মামুনুর রশীদ ও মোঃ ইবরাহীমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মারধোরের ঘটনা তদন্তে শ্যামগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহাবুদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমটি গঠন করা হয়েছে। প্রকৌশলীকে মারধোরের ঘটনায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর মামুন ও ইবরাহীম প্রকৌশল কার্যালয় তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে। শনিবার দুপুরে সরজমিনে রেলওয়ে প্রকৌশল কার্যালয়ে গিয়ে তা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ ময়মনসিংহের রেলওয়ে থানায় দায়েরের জের ধরে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ওয়াহিদুল ইসলামকে তার কার্যালয়ে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করে ওই অফিসের চৌকিদার মামুন ও তার সহযোগীরা। তবে মামুনের বিরুদ্ধে দেয়া প্রকৌশলীর অভিযোগটি ময়মনসিংহ রেলওয়ে পুলিশ ও গৌরীপুর থানা পুলিশের রশি টানাটানির কারণে শনিবার পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসাবে কোনো থানায় নথিভুক্ত হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ে সম্পত্তি গ্রাসে বাঁধা দেয়ার অপরাধেই প্রকৌশলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এসব লুটের ঘটনায় চৌকিদার মামুনের কাছ থেকে রেলওয়ের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তার ভাগ পায় বলে কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এমনকি মারধোরের ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশও গড়িমসি করছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ কার্যালয়ের পাশ থেকে অর্ধলক্ষ টাকা মূল্যের একটি মেহগনি গাছ কেটে নেয় এবং রেলওয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা দুটি কাঁঠালগাছও সরিয়ে নেয় মামুন ও তাঁর সহযোগীরা। গাছ কাটার ঘটনায় প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আর এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মামুন ও ইবরাহীম গত ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ওয়াহিদুল ইসলামকে তার কার্যালয়ে ঘণ্টা খানেক আটকে রেখে মারধর করে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। পরে স্থানীয়রা ওয়াহিদুলকে উদ্ধার করে ময়মমনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর র্দীঘ ৯দিন চিকিৎসা শেষে গত ১মার্চ তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। তবে তিনি পুরোপুরি সুস্থ্য না হওয়ায় এখনো তিসি কর্মস্থলে য়োগদান করতে পারছেন না, নিজের বাসায় বিশ্রামে আছেন।
প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, “রেলওয়ে থানায় গাছ কাটার অভিযোগ দায়েরের কারণেই মামুন ও তার সহযোগীরা আমাকে অফিসে আটকে মারধোর করে। মারধোরের ঘটনায়ও একই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তবে অভিযোগ দেয়ার পর শনিবার বিকাল পর্যন্ত আমার সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের প্রকৌশলী আবারার হোসেন বলেন, মামুন ও ইবরাহীমকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে তারা পলাতক কিনা সেটা পুলিশ বলতে পারবে। আর প্রকৌশল অফিস তালাবদ্ধ করা হয়নি। আহত প্রকৌশলী সুস্থ্য না হয়ে উঠায় অফিস করতে পারছেন না। পাহাড়াদাররা অফিসে আছেন
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চৌকিদার মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মান্নান ফরাজী বলেন, প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনাস্থল রেলওয়ে থানার বাইরে হওয়ায় অভিযোগ বিশেষ দূত মারফত গৌরীপুর থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। রশি টানাটানির কোনো বিষয় নেই।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ তারিকুজ্জামান বলেন, রেলওয়ে থানা থেকে প্রেরিত অভিযোগের তদন্ত চলছে। তবে এখনো মারধোরের শিকার প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। যোগাযোগ করে ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসআইএম/