প্রকৃত মালিকরা অর্পিত সম্পত্তি ফেরত পাবে না : সুলতানা কামাল

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন জাতীয় নাগরিক সমন্বয় সেলভুক্ত সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

সুলতানা কামাল আরো বলেন, যারা ভূমিদস্যু তারা অন্যদের সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে নিজেদের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে অভ্যস্ত হয়ে যান। একসময়ে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করা শেষ হলে তারা অন্যদের সম্পত্তিতে হাত বাড়ায়। শাস্তি না দেয়া হলে তাদের থামানো সম্ভব নয়। এই দেশে জন্ম গ্রহণ করা, এই দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতাকে তোষণ করা হচ্ছে, সংস্কৃতির মধ্যে যেভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে, বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে। কিছুদিন আগে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয় ‘অনেক কিছুই করা যায় না, কারণ পাকিস্তানি মনোভাবের লোকজন দেশে রয়ে গেছে। সংস্কৃতির অনেক কিছুই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না।’ আমাদের অনুরোধ যেন চারদিকে তাকিয়ে দেখা হয় কার চারপাশে কাদের মধ্যে পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক মনোভাব রয়ে গেছে। তিনি আইনমন্ত্রীর ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একজন সৈনিক আমরা মন্ত্রীসভায় পেয়েছি, কিন্তু তিনি রিট করা, আপিল করার নাম করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সমন্বয় সেলভুক্ত সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, এএলআরডি, অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলন, নিজেরা করি, ব্লাস্ট, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ নয়টি সংগঠনের আয়োজনে ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন-এর জনবিরোধী বিধিমালা প্রণয়ন উদ্যোগের প্রতিবাদ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার দাবি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত।

তিনি উল্লেখ করেন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইন বাস্তবায়নের ফলে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা দুর্ভোগ ও হয়রানির লাঘব হবে আশা করা হলেও ভুক্তভোগীদের সে আশা এখনো পুরণ হয়নি। এমনই এক অবস্থায় সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার বিধান রেখে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইনের বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার খবর এসেছে। খসড়া বিধিমালার ৪ নম্বর ধারায় সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় ১৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে চাকরিরত ১০ বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত সমবায় সমিতিকে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য এই জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এধরণের বিধান সম্বলিত বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নতুন করে সম্পত্তি আত্মসাতের ষড়যন্ত্রেরই নামান্তর। প্রস্তাবিত বিধিমালার ৪ (খ) উপধারায় বলা হয়েছে, অংশীদার ও দাবিদারদের সম্পত্তি ইজারা নেয়ার ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের ৯০ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে, যা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইনের পরিপন্থী।

আইন বাস্তবায়নে সরকারের কালক্ষেপণ এবং এই বিধিমালা প্রণয়ন উদ্যোগের সমালোচনা করে অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আইন বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার অভাব সুস্পষ্ট। ২০১৩ আইনের সর্বশেষ সংশোধনীর পর থেকে পাঁচ বছর আমরা একই দাবিগুলো বারবার জানিয়ে আসছি কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার কোনো প্রতিফলন দেখি না, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতার আশ্বাসও আমরা পাইনি।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন নেতা তবারক হোসেইন বলেন, কারো অধিকার খর্ব হলে সরকারের বিরুদ্ধে রিট করার বিধান সংবিধানে আছে। অথচ আইনমন্ত্রী বলে দিলেন, সরকার রিট করতে পারে। মন্ত্রীর এই তথাকথিত অনুশাসনের বলে এখন ট্রাইব্যুনালের ডিক্রি বাস্তবায়নকে বেআইনীভাবে আটকে রাখা হচ্ছে। অর্পিত সম্পত্তিকে লুটের মালের মতো ভাগবাটোয়ারার মতো বর্বর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইনের বাস্তবায়নে আন্দোলন অব্যাহত রাখার তাগিদ দেন।

নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, বিগত কয়েক বছরে আমরা দেখছি জনগণের পক্ষে কোনো কর্মসূচি কার্যত গৃহিত হয় না। নীতিমালা, আইনকে অমান্য করার একটা প্রবণতা সরকারের প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে।