গৌরীপুরে সরকারী গাছ কাটার অভিযোগ দেওয়ায় প্রকৌশলীকে মারধর করলেন স্টোরকিপার

শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেল স্টেশন এলাকায় উর্ধ্বতন উপসহকারি প্রকৌশলী কার্যালয়ের পাশে গাছ কাটার অভিযোগ থানায় দায়ের করার কারণে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনের (আইডব্লিউ) উপসহকারি প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলামকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করেছে স্টোরকিপার মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনে উপসহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত ওয়াহিদুলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। এর আগে গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় স্টোরকিপার মামুনর রশীদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের অর্ধলক্ষ টাকা মূল্যের মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন প্রকৌশলী ওয়াহিদুল।
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) গভীর রাতে রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ কার্যালয়ের পাশ থেকে অর্ধলক্ষ টাকা মূল্যের একটি মেহগনি গাছ কাটা হয়। এছাড়াও একই রাতে রেলওয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা দুটি কাঁঠালগাছও সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে তোলপাড় শুরু হলে ঘটনা আড়াল করতে অস্ত্র ঠেকিয়ে দুর্বৃত্তরা গাছগুলো নিয়ে গেছে, এমন নাটক সাজিয়ে বিষয়টি ধামাচাপার দেয়ার চেষ্টা চালান মামুন। তবে মামুন অস্ত্র ঠেকিয়ে গাছ কেটে নেয়ার বিষয়ে রেলওয়ে থানা কিংবা পুলিশ ফাঁড়িতে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। এদিকে গাছ কাটার বিষয়টি জানাজানি হলে উপসহকারি প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আর এ ঘটনায় ফেঁসে যাওয়ার শঙ্কায় ক্ষিপ্ত হয়ে মামুন গত বুধবার সকালে ওয়াহিদুল ইসলামকে তাঁর কার্যালয়ে ঘন্টা খানেক আটকে রেখে মারধর করে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। এসময় মামুনের সাথে মারধরে শামিল হয় একই কার্যালয়ের কর্মচারী, আছমত ও ইব্রাহীম।
প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ে থানায় গাছ কাটার অভিযোগ দেওয়ার জের ধরেই মামুন ও তাঁর সহযোগীরা আমাকে অফিসে আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করে। এই ঘটনা স্থানীয়রা সবাই দেখেছে। কিন্তু ভয়ে কেউ আমাকে উদ্ধার করতে যায়নি। ঘন্টাখানেক পর স্থানীয় দুই ব্যাক্তি আমাকে উদ্ধার করে অটোরিকশায় উঠিয়ে দেয়। পরে আমি ময়মনসিংহে এসে হাসপাতালে ভর্তি হই। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টোরকিপার মামুনর রশীদ বলেন, মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। ওয়াহিদ স্যার অফিসে নিয়মিত আসেন না। তাই ওইদিন একটু ঝামেলা হয়েছিলো। আর আমি গাছ কেটেছি এমন অভিযোগ সত্য নয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে অঞ্চলের প্রকৌশলী আবারার হোসেন বলেন, প্রকৌশলীকে মারধরের বিষয়টি শোনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি মান্নান ফরাজী বলেন, গাছ কাটার অভিযোগটি তদন্তের জন্য গৌরীপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারেক হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দোষীদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। মারধরের বিষয়ে উপসহকারি প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।