শিল্পীর হাতে আঁকা গয়না

নিউজ ডেস্ক: গয়না তৈরিতে মাসুদা কাজী ব্যবহার করেছেন পলিমার ক্লে। তার সঙ্গে যোগ করেছেন মুক্তা, সিরামিক, কাঠ বা লাভা পাথর, কোরাল, কাচ, পুঁতি ইত্যাদি। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে প্রতিটি গয়না স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে শিল্পীর হাতে তুলির আঁচড় পেয়ে।

কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন মাসুদা কাজী। সেখানে বসেই তৈরি করেছেন শতাধিক গয়না। সেসব নিয়েই ঢাকায় আয়োজন করছেন ‘আর্ট ইন জুয়েলারি’ প্রদর্শনীর। উত্তরার গ্যালারি কায়ায় ২৩ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এমকে (মাসুদা কাজী) জুয়েলারির এই গয়না দেখার পাশাপাশি কেনাও যাবে।

একটু পেছন ফিরে তাকাই। জীবনযাপনের নানা জিনিস নিয়ে একটা প্রদর্শনী। নাম ‘যুগলবন্দী’। ১৯৯৪ সালে ঢাকার সেন্ট্রাল রোডের একটি আর্ট গ্যালারিতে হয়েছিল এই আয়োজন। শিল্পী দম্পতি মাসুদা কাজী ও কাজী রকিব সেখানে প্রদর্শন করেছিলেন কিছু ব্যতিক্রমী গয়না। ব্যতিক্রমী কারণ, সেসব গয়নার ওপর ছবি এঁকেছিলেন মাসুদা কাজী। সাড়াও পেয়েছিলেন ভালো।

ভাবনাটা মাথায় ছিলই। নানা ধরনের গয়না তৈরি করে তাতে ফুটিয়ে তুলেছেন ফুল, ফল, পাখি কিংবা প্রকৃতি। প্রিয়জনদের উপহার দিয়েছেন সেসব।

গয়নায় আঁকা হয়েছে ফুল, ফল, পাখি ও প্রকৃতি। ছবি: সংগৃহীতগয়নায় আঁকা হয়েছে ফুল, ফল, পাখি ও প্রকৃতি। ছবি: সংগৃহীতমাসুদা কাজী বলেন, গয়না তৈরির পর তার ওপর পছন্দমতো জিনিসের ছবি আঁকা হয়েছে। কিছু কিছু গয়নার ছবির সঙ্গে মিল রেখে ছোট্ট িশল্পকর্ম ফ্রেম করা হয়েছে। যে ফ্রেমটা ড্রেসিং টেবিলে সাজিয়ে রাখা যাবে। অর্থাৎ যে ময়ূর শোভা পাবে প্রতিদিনের ড্রেসিং টেবিলে, সেই ময়ূর আবার স্থান পাবে গলার লকেটে। িশল্পীর হাতে অাঁকা গয়নার এই তো মজা!

ছোটবেলা থেকেই আঁকতে ভালোবাসতেন মাসুদা। কাগজ পেলেই রং করতেন ইচ্ছামতো। তাই বাবা-মা তাঁকে উৎসাহ দিলেন চারুকলায় ভর্তি হওয়ার। রাজশাহী চারুকলা কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন।

কোন ধরনের ছবি আঁকতে বেশি ভালোবাসেন? প্রশ্ন শুনে হাসলেন মাসুদা কাজী। জানালেন, ‘ফুল, পাখি, মাছ, প্যাঁচা, ময়ূর—এসবই ঘুরেফিরে বেশি আঁকি। হয়তো এদিকেই বিশেষ টান।’

তাঁর কথা যে ভুল না সেটা বোঝা যাবে প্রদর্শনীর গয়নার দিকে চোখ রাখলেই। গোলাপ, সূর্যমুখী, পদ্ম পাতা, ময়ূর, গোল্ডফিশসহ কত কিছুর ছবি! একটু দ্বন্দ্বই হয় মনে। গয়নার িচত্র? নাকি চিত্রে গয়না।

বিশেষ কোনো দাওয়াত বা পার্টিতে গেলে সহজেই নজর কাড়বে গয়নাগুলো। শাড়ি বা পশ্চিমা পোশাক সব কিছুতেই মানাবে এই গয়না। প্রদর্শনী থেকে কেনা যাবে এই গয়না। দাম ২ হাজার ৮০০ থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত।