সজাগ হলো শিল্পী সমিতি?

নিউজ ডেস্ক: দুই বছর মেয়াদের ১০ মাস চলছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সময় দেওয়া ইশতেহারের বেশির ভাগ প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি বর্তমান কমিটি। তবে ইফতার মাহফিল, পিকনিক আয়োজন, জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের নিয়ে উপদেষ্টামণ্ডলী গঠন ও যৌথ প্রযোজনার ছবির অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সফলতা আছে। সমিতির নেতারা বলছেন, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজও হচ্ছে। অতি সম্প্রতি কিছু ব্যাপারে কমিটির তোড়জোড়ও লক্ষ করা গেছে।

২০১৭ সালের ৫ মে শিল্পী সমিতির নির্বাচন হয়। নির্বাচনে জয়লাভ করে মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল। তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২১ দফার প্রতিশ্রুতি ছিল। এর মধ্যে ছিল, শিল্পীদের জন্য কোটি টাকার ফান্ড গঠিত হবে। সমিতির সভাপতি মিশা বলেন, ফান্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ফান্ডে জমা হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। এখন সমিতি চ্যারিটি শোর মধ্য দিয়ে ফান্ড গঠন করতে চাইছে। ২৬ মার্চ নরসিংদী দিয়ে চ্যারিটি শোর যাত্রা শুরু হচ্ছে।

মিশা বলেন, এই ফান্ড থেকেই আসবে দুস্থ শিল্পীদের উৎসব ভাতা এবং সদস্যদের মেধাবী সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা। শিক্ষা ভাতার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে তিনি দেখা করে কথা বলেছেন।

কথা আরও ছিল-নতুন সদস্য হওয়ার ফি ২৫ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হবে। সমিতির নিজস্ব ওয়েবসাইট খোলা হবে। রাষ্ট্রীয় সফরে চলচ্চিত্র শিল্পীদের সংশ্লিষ্ট করা হবে। বিদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গে তৈরি হবে সম্পর্ক। ছিল কন্যাদায়গ্রস্ত সদস্যদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি। সেসব কাজ কিছুই এগোয়নি। তবে মিশা বলছেন, এগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে।

আরেকটি প্রতিশ্রুতি ছিল, সদস্যদের বিনা মূল্যে প্রতিদিন ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এত দিন এ নিয়ে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বললেন, গত সপ্তাহে এ ব্যাপারে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ১ মার্চ থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হবে।

জায়েদ খান বলেন, অশ্লীল ছবি ও পাইরেসি বন্ধের ব্যাপারে তাঁরা কাজ করেছেন। পাইরেসির মূল হোতারা এখন জেলে। এফডিসিতে সার্ভার বসানোর কাজ এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন মিশা সওদাগর। এর প্রস্তাব তথ্য মন্ত্রণালয় হয়ে এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে।

সভাপতি মিশা বলেন, ইশতেহারের সব কাজই বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাঁরা। প্রতিটি কাজই প্রক্রিয়াধীন আছে। সাধারণ সম্পাদক জায়েদ বলেন, প্রতিশ্রুতির বাইরেও সরকারের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তাঁরা অংশ নিচ্ছেন।

জায়েদ অভিযোগ করেন, ‘আরও আগেই প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে কাজ শুরু করতে পারতাম। কিন্তু নির্বাচনে জয়লাভের পর পরাজিত প্রার্থীদের 
পক্ষ থেকে মামলাসহ নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে।’

শিল্পী সমিতির নেতাদের আশা, যেহেতু সমিতির কাছে এখনো এক বছরের বেশি সময় আছে, এ সময়ের মধ্যে সব মহলের সহযোগিতা নিয়ে সব প্রতিশ্রুতি তাঁরা বাস্তবায়ন করতে পারবেন।

এদিকে নিয়মিত শিল্পী না হয়েও সমিতির সদস্য হওয়ার অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে ১৫ ফেব্রুয়ারি সমিতির নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সদস্য থাকতে হলে অবিতর্কিত পাঁচটি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। পেশা হিসেবে অবশ্যই চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পীর নথি থাকতে হবে। জায়েদ জানালেন, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শিগগিরই।