ভালোবাসা দিবস উদযাপিত

 

নিউজ ডেস্ক :  বসন্তের মাতাল হাওয়ায় নানা অনুষঙ্গে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপন করেছে উত্সাহী মানুষ। ভালোবাসার উন্মাতাল উন্মাদনা ছড়িয়ে ছিল চারদিকে। পশ্চিমা দুনিয়ার ১৪ ফেব্রুয়ারির এই প্রেম উত্সব বাংলাদেশের তারুণ্যের ভেতর এক অদেখা ভূবনের উত্তেজনা রচনা করেছে। দুরু দুরু বুক, চোখে মেখে মায়ার কাজল, হূদয়ের উষ্ণতায় কাটিয়েছে প্রণয় পতিতরা। আকুতি ঝরেছে ‘সখি কেমনে বাঁধিব হিয়া! ’

মুঠোফোন, ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টুইটার ও ইন্সটাগ্রামে খুদে বার্তা অথবা চ্যাটিং-এ পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় পল্লবিত হয়েছে। খোঁপায় গাঁদা ফুল, পরনে বাসন্তী রংয়ের শাড়ি, ডান হাত প্রিয়জনের মুঠোয় বন্দি করে বেড়িয়েছে অনেকেই। কেবল প্রেমিক-প্রেমিকা নন, স্বামী-স্ত্রীরাও এদিন আলাদা করে সময় কাটিয়েছেন।

পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির অনুকরণে চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, মেইল, মুঠো ফোনের প্রেমবার্তা, হীরের আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার, বই অথবা বুকের ভেতর থাকে যে গোলাপের ইশারা, সেই রক্তগোলাপ হয়ে উঠেছে ভালোবাসা দিবসের প্রধান অনুষঙ্গ। কেউ কেউ গোলাপ ফুল, চকোলেট ক্যান্ডি আর ছোট্ট চিরকুট দিয়েছে প্রিয়জনকে। তাতে দু’ছত্র গদ্য অথবা পদ্যে প্রেমের ঊর্মি। ভাসির্টি ক্যাম্পাস, পার্ক, নির্জন গৃহকোণ, কফি শপ, হোটেল-রোস্তোঁরা, বাগানবাড়িতে ‘ডেট’ করেছে যুগলরা। অর্থকড়িওয়ালারা প্রেমিকের সাথে লং ড্রাইভ, হোটেলে কাটিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কাপল কটেজ তৈরি করে জুটিদের সময় কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়। বিয়েও করেছে অনেক যুগল। বন্ধুরা ট্রিট দিয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সিঙ্গেলরা মিছিল করেছে। তারা প্রেমের দাবিতে শ্লোগান দিয়েছে। এছাড়া রাজধানীর গুলশান-বনানীর সিসা বারে সন্ধ্যার পর তরুণ-তরুণীরা ভ্যালেন্টাইনস ডে পার্টির আয়োজন করে।

২৬৯ খ্রিস্টাব্দে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন’স নামে একজন খ্রিষ্টান পাদ্রী ও চিকিত্সকের ঘটনা নিয়ে যে ভালোবাসা দিবস পালন করা হচ্ছে, সম্প্রতি গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে ভ্যালেন্টাইনের গল্পটি প্রেম সংক্রান্ত ছিলো না। এর কোন সত্যতাও মেলেনি। তাতে কি? প্রেম-ভালোবাসা দিবস পালনের একটা মওকা বের করে নিয়েছে কপোত-কপোতিরা। আর বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলো বহুমাত্রিক বর্ণময় প্রচারণায় এই দিনটিকে ভালোবাসা দিবস বলে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। তারা একটা নতুন প্রেমের বাজার তৈরি করেছে। লাখ লাখ কার্ড, ঘড়ি থেকে হিরে বিক্রি হচ্ছে, মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডাররা এসএমএস থেকে টাকা তুলছে, টেলিভিশনে এমন একটা ভাব যে ভ্যালেন্টাইন’স ডে-তে দেশে উত্সব বসেছে।

১৯৯৩ সালে সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকার মাধ্যমে দিবসটির আমদানি করা হয় বাংলাদেশে। তবে সেসময় একটু চালাকি করে দিবসটিকে ভ্যালেন্টাইনস ডে নাম না দিয়ে ‘বিশ্ব ভালবাসা দিবস’ নাম দেওয়া হয়। খেতে যাওয়া, ফুল-কার্ড দিয়ে সেলিব্রেট করা এতটুকু ছিলো স্বাভাবিক। কিন্তু দিনে দিনে ভালোবাসা দিবস পালনের নামে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কদর্যতার অনুপ্রবেশ দেখে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। কোথাও কোথাও ভালোবাসা দিবস পালন অনেক সময় শালীনতাকে অতিক্রম করছে।