‘সমবায়’ হারানো গৌরব ফিরে পাবে চলতি বছরেই : এলজিআরডি মন্ত্রী


মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ॥

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া সমবায় বিভাগের হারানো গৌরব চলতি বছরের মধ্যে ফিরে পাবে, এজন্য বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় কাজ করছে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, সমবায় বিভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে সমবায়ের বিধি বিধান যুগোপযোগী করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে সারাদেশ ব্যাপী সমবায়ীদের উপযোগী প্রশিক্ষণ ব্যাপকভাবে শুরু করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সমবায় বিভাগের নিবন্ধক ও মহাপরিচালকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন এলজিআরডি মন্ত্রী।
বুধবার বিকেলে জেলা পরিষদ হলরুমে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমবায়ীদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী নির্বাচিত সমবায়ীদের মাঝে চেক বিতরণ করেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মাফরূহা সুলতানা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রী আরো বলেন, কৃষি ঋণ বিতরণের জন্য সমবায়ের জন্ম হয়েছিল। সমবায় ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ং স¤পূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষতার কারণেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ং স¤পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। সীমিত সম্পদ এবং কৃষি জমি কম থাকা ও জনসংখ্যা অনেকগুনে বেশী থাকায় যা ছিল অস্বাধ্য। যা বিদেশেও এখন রোল মডেল হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। আর এসব হয়েছে সমবায়ীদের মাধ্যমেই। যার ৯০ভাগ সফলতার দাবীদার সমবায়। সমবায় ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, ক্ষুদ্র ঋণের আবদ্ধতা থেকে প্রান্তিক জনগোষ্টিকে মুক্ত করে উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনতে একটি বাড়ী একটি খামার চালু করা হয়েছে। যাতে প্রান্তিক জনগোষ্টি নিজেদের সঞ্চয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে এবং সমাজ উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সমবায় বিভাগের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মোঃ আব্দুল মজিদ, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি.এম সালেহ উদ্দিন, ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, বিভাগীয় সমবায় যুগ্ম নিবন্ধক খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান সহ ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণা জেলার সফল সমবায় সমিতির কর্মকর্তাবৃন্দ।
সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের যে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, তার কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমবায় প্রধান ভূমিকা রাখবে। সমবায় ছাড়া জাতীয় অগ্রগতি সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দৃঢ় প্রত্যয়ের কারণে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন এ কাজে হাত দেন তখন বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও গোষ্ঠীরা কটাক্ষ করেছিল। পাশাপাশি আমাদের কৃষি জমির স্বল্পতাও প্রতিবন্ধক হিসেবে ছিল। কিন্তু তিনি দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে দেখিয়েছেন। আর এ স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার ৯০ শতাংশ সমবায়ের অবদান।
মন্ত্রী বলেন, এই উপমহাদেশে সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য সমবায় পদ্ধতির সৃষ্টি। কৃষিখাতকে মহাজনদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কৃষি ঋণ প্রদানের উপায় হিসেবে সমবায় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। সমবায়ের মাধ্যমে এ সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়েও কাজ করতে হবে।
পরে মন্ত্রী ময়মনসিংহ টাউনহলের তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের উপকারভোগীদের সম্মেলনে যোগদান করেন। রাতে মন্ত্রী স্থানীয় জন প্রতিনিধি. প্রশাসন ও সুধীসমাজের সাথে টাউনহলের তারেক অডিটরিয়ামে ময়মসিংহের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।