ময়মনসিংহ মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা দেখে অভিভূত সাজ্জাদ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ৬৫ কিলোমিটার এখন সিসি ক্যামেরার আওতায়। এতে ধরা পড়ছে অপরাধীরা; দুর্ঘটনা রোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনও সহজ হচ্ছে। ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগটি নিয়েছেন ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। পুলিশ সুপার অফিস সংলগ্ন সুপরিসর সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুম সোমবার সকালে পরিদর্শনের আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সাজ্জাদুল হাসান।

টাকা হাইজ্যাক, পেট্রোল দিয়ে বাস পুড়ানো, সড়ক অবরোধ, চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িতদেও সনাক্ত করার সচিত্র দৃশ্য এবং পরবর্তীতে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার বিভিন্ন দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়। অভূতপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব অভিভূত হন। তিনি জানান সারাদেশের মহাসড়কে সিসি ক্যামেরায় আওতায় আসলে অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পেতো। নেত্রকোণা জেলায় এরূপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, শ্রীপুরের নাসির গ্ল্যাস থেকে ময়মনসিংহের মাসকান্দা পর্যন্ত মহাসড়কের ৬৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সিসি ক্যামেরা আওতায় আনা হয়েছে যা বাংলাদেশে এটিই প্রথম। ১২ কোরের অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে হাই রেজুলেশনের ২৬৫টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ অংশের পুরোটাই এখন ক্যামেরার আওতায়।

পুরো মহাসড়ক ঘরে বসেই নজরে রাখছেন কর্মকর্তারা। ২৪ ঘণ্টা চালু থাকছে এ সিসি ক্যামেরা ও মনিটরিং। ২৬৫ সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে মহাসড়কে। এগুলো আইপি ক্যামেরা (ইন্টারনেট প্রটোকল ক্যামেরা)। একটি ক্যামেরা প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা কাভার করতে পারে। মনিটরিং কক্ষটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশে। ২৪ ঘণ্টা কর্মকর্তারা নজর রাখছেন। মূল মনিটরটি ২১ ফুট। উচ্চতা ১০ ফুট।

সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন আমার স্বপ্ন ময়মনসিংহ শহর সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা। এ জন্য বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। শিগগিরই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ক্যামেরার আওতায় চলে আসবে। এতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, ইভ টিজিং, যানজট সমস্যার সমাধান অনেকটা সম্ভব হবে।’ এদিকে ময়মনসিংহ শহর সিসি ক্যামেরায় আওতায় আনতে হলে আরো প্রায় এক কোটি টাকা প্রয়োজন।

বিভিন্ন ব্যাংক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং ব্যাক্তি পর্যায়ের লোকজনের দান অনুদানের মাধ্যমে এই বিশায় যজ্ঞ বাস্তাবায়িত হচ্ছে। আগ্রহী দানশীল ব্যক্তিদেও বাকী প্রয়োজন মেটাতে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল উপজেলা সদরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ২০ কিলোমিটার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়। ওখান থেকেই সিসি ক্যামেরার মনিটরিং রুমে বসে ঘটনাটি দেখছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। মুহূর্ত দেরি না করে তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমকে জানালেন।

পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানাল ত্রিশাল থানা পুলিশকে। ৫/৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেল পুলিশ। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটল না। যানজটও হলো না। ব্যস্ত এ মহাসড়কে পরিস্থিতি স্বাভাবিকই থাকল। এভাবেই সিসিটিভিতে ঘটনা দেখে দুর্ঘটনা রোধ ও অপরাধ দমনে কাজ করছে ময়মনসিংহের পুলিশ প্রশাসন।

এ উদ্যোগটির প্রধান মানুষটি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। এই পদে আসার আগে তিনি ঢাকার রমনা ও ওয়ারী এবং নারায়ণগঞ্জে কাজ করেছেন। সেসব স্থানে স্বল্প পরিসরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সুফল পেয়েছিলেন। ময়মনসিংহে এসে করলেন বড় পরিসরে। সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক।

দুই পাশে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ সড়কে অপরাধীদের তত্পরতাও আছে। অপরাধ দমনে কিভাবে এখানে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, এ চিন্তা থেকেই সিসি ক্যামেরার কথা ভাবতে থাকি। ইন্টারনেট থেকে ধারণা নিই। লন্ডনে কিভাবে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করে নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া হয় সেগুলো ভালোভাবে দেখে নিই।’

এরপর গত বছরের শেষ দিকে তিনি ভালুকায় শিল্প মালিক ও বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তাদের সহায়তা চান। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সাবেক পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক (বিপিএম, পিপিএম)।

ক্যামেরাগুলো বসানোর পর বেশ কিছু অপরাধ নিষ্পত্তি করেছে পুলিশ বিভাগ। দুই খুনের আসামি ও আন্তজেলা দুধর্ষ গরু চোরের দলকে সিসি ক্যামেরার ছবি দেখেই ধরতে পেরেছে। ত্রিশাল উপজেলা সদরের অনেক ছোটখাটো চুরির ঘটনাও পুলিশের নজর এড়ায়নি। শনাক্ত করে ধরা গেছে চোর। ভ্যানে করে গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে চোরের দল। পরে এদের ধরা হয়
এদিকে নিজেদের সুবিধার জন্য সিসি ক্যামেরার কেবল কেটে দিয়েছে চোরের দল। তাই এখন ক্যামেরাগুলো এমনভাবে বসানো হচ্ছে, একটি ক্যামেরার কেবল কাটলে অন্য ক্যামেরায় রেকর্ডিং হয়ে যাবে। কাজেই চোরকে ধরা পড়তেই হবে।

এই ক্যামেরাগুলোতে মনিটরিং পদ্ধতিতে অন্তত ১০টি সড়ক দুর্ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। এসব দৃশ্য দেখলে আঁতকে উঠতে হয়। তবে এতে করে দুর্ঘটনার কারণ জানা সহজ হয়েছে। এসব রেকর্ডিং নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধেও কাজ করছেন পুলিশ সুপার। অন্তত ছয় শ চালকের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে এসব দৃশ্য দেখিয়েছেন তিনি।

প্রিন্স, ঢাকা