শ্রমিক নিহতের ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম এর উদ্বেগ

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দিতে পাথর কোয়ারি ধসে চাপা পড়ে সোহেল আহমদ (২০) নামে এক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম-এসএনএফ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এভাবে একের পর এক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে পাথর শ্রমিকরা এবং এ মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। আর কত দুর্ঘটনা ঘটলে, আর কত প্রাণহানি ঘটলে কর্তৃপক্ষ সচেতন হবে সেটি এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮) সকাল সাড়ে ১০টায় বিছনাকান্দির কুলুমছড়াপাড় গোচর এলাকার সজিব মিয়ার কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনের সময় কোয়ারি ধসে পাথর চাপা পড়ে সোহেল মারা যান । এর আগে গত ২ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে সিলেটের জাফলংয়ে জুমপাড় মন্দির এলাকায় নানু মিয়ার পাথর কোয়ারিতে গর্তের মাটি ধসে এক নারীসহ চার শ্রমিক নিহত এবং তিন শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৭৮.ক ধারায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় বলা হয়েছে। শ্রমিকগণের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ব্যতিত নিয়োগকারী কাউকে কর্মে নিয়োগ করতে পারবে না এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নিয়োগকারী প্রত্যেক শ্রমিককে কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করবে-এ কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু সিলেটের এ ঘটনায় এটি প্রতীয়মান হয় যে, সেখানে শ্রম আইনের এই বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম মনে করে আর সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে পাথর কোয়ারিতে পরিদর্শন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় শ্রমিকের জীবনের ঝুঁকি ও প্রাণহানির শংকা বাড়তেই থাকবে। এছাড়াও শ্রম আইন বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর’ এর মাধ্যমে উপরোক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম। পাশাপাশি ঘটনায় নিয়োগকারীসহ দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি বিধান করা, হতাহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি সারাদেশে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে শ্রম আইন বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রিন্স, ঢাকা