পদত্যাগ করেছেন প্রাণগোপাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন গভর্ণিং বডির চেয়ারম্যান প্রাণগোপাল দত্ত।

রাজধানীর ‘উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ’ হাসপাতালে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তিতে গুরুতর অনিয়ম ঠেকাতে না পেরে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। ভর্তিতে তোয়াক্কা করা হয়নি মেধা তালিকা ও সরকারী নিয়ম নীতির। আগে আসলে আর টাকা হলেই মিলেছে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ।

উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা মিলে। আর ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ভর্তির সময়সীমা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হয়েছে ভর্তি প্রক্রিয়া। অপরদিকে মেধাতালিকার শীর্ষে থাকা অনেকেই তাড়াহুড়া করে ব্যাংক ড্রাফট করে এলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তির জন্য সাক্ষাৎ করতে দেয়নি।

ভর্তি হতে আগত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তখন ব্যাংক ড্রাফট করার মতো সময় ছিল না। অথচ ওই দিনই ১৭ জন শিক্ষার্থী ১৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকার পে অর্ডার জমা দেন। এটা কেমন করে সম্ভব? আর তারপর শনিবার ও রোববার ছিল সরকারি ছুটি।

তারা রোববার সকালে এসে ভর্তি হয়ে যান। এরপরও আমরা অনেকক্ষণ লাইন ধরে ছিলাম। কিন্তু ভেতর থেকে অফিসের লোকজন ডেকে ডেকে লাইন থেকে কাউকে কাউকে নিয়ে গেছেন। এখানে কোনো নিয়মশৃঙ্খলা নেই।

তারা অভিযোগ করে আরো জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবারও কলেজের ওয়েবসাইটে খুঁজে তিনি কিছু পাওয়া যায়নি। আগে এলে আগে পাবেন, সে রকমও কিছু ছিল না। অথচ যারা আগে যোগাযোগ করেছেন তারাই ভর্ভি হচ্ছেন। তাই ভর্তি হতে এসে এমন বেহাল দশা দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই কলেজে মোট আসন ৯০টি। এর মধ্যে বিভিন্ন কোটায় ১৮টি । আর সাধারণ কোটায় ৭২টি আসন। এর মধ্যে ১১ ডিসেম্বর প্রথম দিনে ১৭টি আসনে ভর্তি হয়ে যান শিক্ষার্থীরা। রোববার বাকি ৫৭ আসনে ভর্তি চলেছে। যে ১৭ জন আগাম পে-অর্ডার পরিশোধ করে ভর্তি হয়েছেন তাদের জাতীয় মেধাতালিকায় সিরিয়াল ছিল যথাক্রমে ১৯০৪৩, ১৮৩০২, ১৫৫৮৬, ১৪৯৪৩, ১২৪২৭, ১২৪২৭, ১২০৮৫, ১১৫৬৬, ১১০৪৫, ১০৮১৭, ১০০৯৫, ৯৭৭১, ৯২১৬, ৮৮১৮, ৮০৭১, ৭৪৩৮ ও ৭১৭৮।

তারা প্রত্যকেই সরকার নির্ধারিত টিউশন ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই সরকার নির্ধারিত মেধাতালিকার অনেক পেছনের সিরিয়ালে রয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, শুধুমাত্র গোপনে অর্থ লেনদেন করে তদবির ও যোগাযোগ করেছেন এমন শিক্ষার্থীদেরকেই সাক্ষাতের সুযোগ ও ভর্তি করা হয়। গভর্নিং বডির সদস্যদের মধ্যে অসাধুরা অবৈধভাবে ভর্তির সুযোগ করে দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তারা। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের নজিরবিহীন অনিয়মের ফাঁদে পড়ে মেধাতালিকার সিরিয়ালে ভর্তির সুযোগ রয়েছে এমন শিক্ষার্থীর মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাচ্ছে। মূল্যহীন হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার মানদন্ড।