কোন্দল-কলহ ও ষড়যন্ত্রে জড়ালে বিলীন হয়ে যাবেন, দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি ড. অাব্দুর রাজ্জাক

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মসনিসংহ :

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কোন্দল-কলহ ও ষড়যন্ত্রে জড়ালে বিলীন হয়ে যাবেন। অতীতে যারা এসব করেছে তারা রাজনীতিতে বিলীন হয়ে গেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সকল দুর্যোগময় মুহুর্তে কর্মীরা প্রমাণ করেছে তারাই আওয়ামীলীগের ভিত্তি। ময়মনসিংহে জেলা আওয়ামীলীগের কর্মী সভা তা প্রমাণ করেছে। ময়মনসিংহে কর্মীদের মাঝে উচ্ছাস সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কর্মীসভা জনসভায় রূপান্তর হয়েছে। সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো প্রকার কোন্দল-কলহে জড়ানো যাবে না। সব ভেদাভেদ ভুলে আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে ডঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আপনি ও আপনার অর্থমন্ত্রী করফাকি দিয়েছেন, আপনার ছেলে বিদেশে টাকা পাচার করেছে। আপনি করফাকি ও দুর্নীতিবাজ এবং আপনারদুই ছেলে চোর তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। তারেক জিয়া লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন, তার ষড়যন্ত্র কোন দিন সফল হবেনা।
তত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কোন দিন তত্বাবধায়ক সরকার হবেনা। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবেই নির্বাচন হবে। যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে তার অধীনেই নির্বাচন হবে।
ময়মনসিংহে আওয়ামীলীগের কর্মীসভা জনসভায় রূপান্তর হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছাস সৃষ্টি হয়েছে। এ উচ্ছাসই প্রমান করে ময়মনসিংহবাসী আবারো আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনতে চায়। তিনি দেশের উন্নয়ন সম্পর্কে বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের নয় বছরে ভিক্ষুক ও দুভিক্ষ থেকে আজ স্বয়ংস¤পূর্ণ হয়েছে। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, চিকিৎসাসহ সর্ব ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। সরকার সারের দাম কমিয়ে কৃষিখাতে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়স¤পূর্ণ করেছে।

পদ্ম সেতু সম্পর্কে তিনি বলেন, দুর্নীতির অজুহাতে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংখ অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে আর শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্ম সেতু করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে বিশ্বে চিহিৃত হয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন বিবেদ নয়। কোন এলাকার উন্নয়ন না হওয়ায় কারো বিরুদ্ধে অপপ্রচার নয়। সীমিত অর্থ দিয়ে শেখ হাসিনা সারা দেশের উন্নয়ন করে চলছেন। উন্নয়ন বঞ্চিত বা না হওয়া এলাকা আগামীতে উন্নয়ন করা হবে। এ জন্য বিবেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অতীতের ন্যায় আরেকবার শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে নৌকাকে বিজয়ী ক্ষমতায় আনতে হবে। তাহলেই আমরা সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ পাব।
সভায় বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি বলেন, আওয়ামী লীগের ঐক্য আগামী নির্বাচনে বিজয় সুনিশ্চিত করতে পারে। অনৈক্যের কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসতে পারলে কেউই রেহাই পাবেন না। নেতাকর্মীদের যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রেখে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দিপু মনি এমপি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ছিঠমহল সমাধান, সমুদ্র বিজয় ও রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থেমে যাবে। আমরা ভুতের মত পিছনের দিকে হাটতে শুরু করব। আমরা পেছেনে যেতে চাইনা। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার সরকার অন্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা পুরণ করে আজ বৈষম্য নিরসনে কাজ করছে। তথ্য প্রযুক্তি দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে কাজ করছেন। তিনি তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেন, দেশের বার কোটি মানুষ আজ মোবাইল ব্যবহার করছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ বিশ্বকে জানতে পারছে। বাংলাদেশের মানুষ আজ বিশ্ব নাগরিকে পরিণত হয়েছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একমাত্র ঐক্যই নিশ্চিত করতে পারে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নিরংকুশ বিজয়। নির্বাচনে নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে নৌকাকে বিজয়ী করার দায়িত্ব নিতে হবে। মনোনয়ন যুদ্ধ থাকতেই পারে। এরপরও দলীয় শৃংখলা মেনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটি গঠন এবং আওয়ামীলীগের অর্জন ও বিএনপির ষড়যন্ত্র, তাদের অপরাধ, অপকর্ম তুলে ধরে গ্রামে গঞ্জে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের পরিচালনায় কর্মী সভায় বিশেষ অতিথির আরো বক্তব্য রাখেন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, অ্যাডকোট মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, মফিদুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোছলেম উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ডা. এম. আমান উল্লাহ, শরীফ আহমেদ, আনোয়ারুল আবেদীন খান, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, ফাতেমা জহুরা রানী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামূল হক টিটু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, মোহিত-উর রহমান শান্ত, কেএম খালিদ বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম বেগ, অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান খোকন, শাহ শওকত ওসমান লিটন, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহীনুর রহমান, শহর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন আরিফ প্রমুখ।
এ কর্মী সভাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন পর চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে আ’লীগের নেতা-কর্মীরা। সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শোডাউন নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন দলীয় সংসদ সদস্যরা।