নৃত্যশিল্পের সুষমা ফিরিয়ে আনতে হবে: নূর

স্টাফ রিপোর্টার: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, আমাদের দেশে প্রায় হাজার বছর ধরে নৃত্য চর্চা হচ্ছে। আগে নৃত্যের মধ্যে শিল্পের যে সুষমা ও সৌন্দর্য দেখা যেত, ইদানীংকালে তার ঘাটতি লক্ষ্যণীয়।

আমাদের নৃত্যশিল্পের সে সুষমা ফিরিয়ে আনতে হবে। নৃত্যের মূলধারা ক্লাসিক্যাল বা ধ্রুপদী। এখনকার বেশিরভাগ নৃত্য দেখলে কখনো মনে হয় পাশ্চাত্য ধাঁচের, আবার কখনো বা মনে হয় অ্যাক্রোবেটিক বা শারীরিক কসরত। আমাদের নৃত্যশিল্পকে এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মন্ত্রী বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নৃত্য সংগঠন স্পন্দন এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বার্ষিক সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

স্পন্দন এর সভাপতি রেজাউর রহমান সিনহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশের সিনিয়র পরিচালক ডাঃ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি হাজী মোঃ আরিফ হোসেন ছোটন এবং বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে পুরুষ নৃত্যশিল্পীর সংখ্যা কম। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও নৃত্য চর্চায় এগিয়ে আসা উচিত। আমাদের সমাজে এখনো ছেলেরা নৃত্যশিল্পের চর্চা করলে মেয়ে হয়ে গিয়েছে বলে হেয় করা হয়। এ মনোবৃত্তি পরিহার করা উচিত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিখ্যাত নৃত্যশিল্পীদের অনেকেই পুরুষ।

বর্তমান সরকার দেশে শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যের প্রসারে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শীঘ্রই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একটি শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্য উৎসব আয়োজন করা হবে। এছাড়া একটি আন্তর্জাতিক শাস্ত্রীয় নৃত্যোৎসব আয়োজনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্পন্দন এর প্রতিষ্ঠাতা অনিক বোস। স্বাগত বক্তৃতা করেন সংস্থাটির  সাধারণ সম্পাদক মানস বোস বাবুরাম।

পরে স্পন্দন এর নৃত্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতি নৃত্যনাট্য ‘শাপমোচন’ পরিবেশিত হয়।