প্রশ্ন

এম এস প্রিন্স

হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খিস্টান
মহাজানতার সৃষ্টি সবাই সমান
আমি মুসলমান (নহে পূণ্যে
মানুষ হিসেবে) সবারই করি সম্মান।
তবে এমন-ও মানুষ ঘৃণ্য
সুমধুরে কার্য যার হিংস্র পশু তুল্য।

হায় খোদা
মানুষ হিসেবে আন্তরিকতার অঙ্গীকারে পূর্ণ মর্যাদা
পাবার আশে চোখ তুলে তাকাই যদি প্রকৃতির গায়
শূন্য হাতেই আসি ফিরে বারেবারে গ্রহণ-বর্জনের চিন্তা ধারায়।
মসজিদ মন্দির গির্জাতে আগুন মাদ্রাসায় মূর্তির ঢল
কোন আন্তঃসংযোগের কেন্দ্রিকতায় দাঁড়াল এই গগন তল?
এইখানে বিচার আচার চলে চলে শূন্য পদে নিয়োগ দান
এইখানেই বলী দে’য়া হয় কত ভৃত্য গুণিজনেরও মান-সম্মান।
ভৃত্যেরা কর্মেই ফিরে
নিষ্ঠুর এই পৃথিবীতে কত চাকরাণী সতিত্ব হারায় আঁধারে।
ভৃত্যও কভু ভৃত্যরে হানে বোঝা-পরা করে মালিকের সনে
বেলাশেষে নিয়োগ দাতা ভৃত্য মায়না লয় গুণে গুণে।
আর ভৃত্য শূন্য হাতেই বাড়ি চলে, নীরব চোখের জল
ক্লান্ত দিনের শেষে এই তার শেষ সম্বল।
কার কাছে বিচার চাব চাহিবই বা কেমনে! ধর্মান্ধতার নীড়ে
হাত-পা বাঁধা, জীবন যে আঁধার জীবনের তরে।
ছেলে পুলে বউও মুখ চেয়ে রয়েছে বড় আশে
কেমনে জবাব দিব? ক্ষুধার ঠাকুর হাসে।
এই ভাবিতে ভাবিতে নীরব গল্পের সারমর্মের মূলে
অসহায় ভৃত্য বলে-
জলের মাছ ডাঙ্গায় ডাঙ্গার ওরা জলে
রূপ বেধ বিধান পাল্টায়ে আজিকে আর
হায় খোদা আমরা যে সত্যিই মানুষ এই অটোগ্রাফ নিব কার?
ইহ জগতের তরে
যে বোধশক্তি জাগিয়াছে আমার ঘুরিয়া সবার ধারে ধারে
তার থেকে হৃদয় কয়
এই দেশ এই পৃথিবী আমার মত যারা তাদেরও তো নয়।