মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি

নিউজ ডেস্ক:  মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার। রাজনৈতিক সংকট ঘণীভূত হওয়ায় সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেন। এর আগে প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বা গ্রেপ্তারে সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপ রুখতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয় ইয়ামিনের সরকার। খবর বিবিসি ও এনডিটিভি’র

জরুরি অবস্থা জারির ফলে নিরাপত্তা বাহিনী যে কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। তাদের ক্ষমতা আগের চেয়ে বাড়বে। ভারত তাত্ক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মালদ্বীপ সফরে নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে শুক্রবার সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের বিচারকে অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট বিরোধী দলের ১২জন সংসদ সদস্যকে মুক্তির আদেশ দেয়। তারপরই সংকটের শুরু হয়। সরকারও পাল্টা পদক্ষেপে পার্লামেন্টের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেনাবাহিনী পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে রেখেছে। অন্যদিকে মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে আদেশ মানতে বাধ্য করতে ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে তা অস্বীকার করেছে ডিপার্টমেন্ট অব জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিজেএ)।

মালদ্বীপের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহামেদ অনিল বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে আটকের যে কোনো পদক্ষেপই হবে অবৈধ। তিনি রবিবার যখন সংবাদ সম্মেলন করছিলেন তখন তার পাশেই ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এবং পুলিশ প্রধান। অনিল বলেন, আমরা তথ্য পেয়েছি যে এমন কিছু হতে পারে যেটি জাতীয় নিরাপত্তা সংকট তৈরি করবে। এছাড়া এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারকে সমর্থনের আশ্বাস দেওয়া হয়।

এদিকে রবিবার রাতে বিরোধী পক্ষের একটি মিছিল জড়ো হয় আদালত প্রাঙ্গনে। সেখানে সমপ্রতি মুক্তির আদেশ পাওয়া রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সরকারের প্রতি আহ্বানও থাকে সেই সমাবেশে। শ্রীলংকায় নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ আদালতের নির্দেশ না মানাকে অভ্যুত্থানের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি সরকার ও প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের আহবান জানিয়েছেন।