রংপুরে বানিয়াপাড়ায় আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু

নিউজ ডেস্ক : রংপুর মহানগরীর টার্মিনাল বানিয়াপাড়ায় বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে তাবলিগ জামায়াতের আঞ্চলিক ইজতেমা। রংপুর জেলার দুই লাখেরও বেশি মুসল্লি এতে অংশ নিবেন বলে ধারণা করেছেন আয়োজক সংশ্লিষ্টরা। 

ইজতেমাকে নির্বিঘ্নে করতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা ছাড়াও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ইজতেমায় বয়ান করতে ইতোমধ্যে সৌদি আরব, চীন, মরক্কো ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাবলিগের মুরব্বিরা রংপুরের তাবলিগ মারকাজ মসজিদে উপস্থিত হয়েছেন।

তাবলিগ জামায়াতের স্থানীয় সংগঠক শামীমুজ্জামান শামীম জানান, বিশ্ব ইজতেমার নিয়মানুযায়ী যে ৩২ জেলা এবার বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয়নি, তারা নিজ জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমার আয়োজন করবেন। ২০১০ সাল থেকে রংপুরে আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু হয়ে আসছে। এবার রংপুরে চতুর্থবারের মতো ইজতেমা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার পর্যন্ত এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

বিগত বছরগুলোতে তিন দফায় রংপুর কালেক্টরেট মাঠে এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও বিপুল পরিমাণ মুসল্লীর উপস্থিতির কারণে এবার নগরীর টার্মিনাল বানিয়াপাড়ায় এলাকার ১০ একর জমির উপর সামিয়ানা সংবলিত প্যান্ডেল টাঙানো সম্পন্ন হয়েছে। রংপুরের আট উপজেলার প্রায় দু’লাখ মানুষ এই ইজতেমায় অংশ নেবেন। ইজতেমায় অংশ নেয়া মুসল্লিদের সেবায় তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে।

এছাড়া দূরের মুসল্লিদের পরিবহন রাখার জন্য গ্যারেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্মিত প্যান্ডেলের ভেতরে একসাথে ৫০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। মাঠের আশপাশে শতাধিক খাবারের দোকান বসানো হয়েছে। ৯৬০ টি বাথরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠকে আলোকিত রাখতে বিদ্যুতের লাইন ছাড়াও শতাধিক জেনারেটর বসানো হয়েছে। চিকিৎসা সেবার জন্য সার্বক্ষণিক অর্ধ শতাধিক মেডিকেল টিম কাজ করবে মাঠে। 

তিনি আরও জানান, এই ইজতেমা শেষে এখান থেকে সাত হাজার মানুষ ৫০০টি দলে বিভক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে মুসল্লিরা যাবেন।

ইজতেমা আয়োজকদের মুরব্বি আহসান হাবীব জানান, ইজতেমায় বয়ান করতে ইতোমধ্যেই সৌদি আরব ও চীন থেকে থেকে নয় জন করে এবং মরক্কো থেকে আট জনসহ রাজধানীর কাকরাইল থেকে বিশিষ্ট আলেমগন এসেছেন। এছাড়া স্থানীয় মুরুব্বিগণও ইজতেমায় বয়ান করবেন। আজ ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ফজরের নামাজের পর বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাশোয়ারার ভিত্তিতে আলেমগন বয়ান করবেন।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, আঞ্চলিক ইজতমোর বড় আয়োজনটির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা। সিটি করপোরেশন থেকে সকল ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইজতেমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে। তিনি সবাইকে সুশৃঙ্খলভাবে ইজতেমার বয়ান শোনার আহবান জানান।

কোতয়ালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল মিয়া জানান, ইজতেমায় নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। ইনার কর্ডন, আউটার গর্ডন ছাড়াও সাদা পোশাকী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। এছাড়াও পুলিশের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে ইজতেমা মাঠে।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুর রহমান সাইফ জানান, মুসল্লিদের ইজতেমা মাঠে নিরাপদে যাওয়া, সেখানে থাকা এবং ফিরে যাওয়ার জন্য নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ইজতেমা মাঠের একটি স্কেচ ম্যাপ সংশ্লিষ্ট সবার হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। স্কেচ ম্যাপ অনুসরণ করে মুসল্লীরা নিজ নিজ উপজেলার হালকায় যেতে পারবেন।