গোপনীয় নথি গোপনে সংগ্রহ চৌর্যবৃত্তির শামিল :আইনমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নথি সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশে বাধা নেই। তবে যেসব নথিতে গোপনীয় বা অতি গোপনীয় লেখা থাকবে, সেগুলো রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ধরনের নথি খোয়া যাওয়া বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া গোপনে সংগ্রহ করা চৌর্যবৃত্তির শামিল। আর চৌর্যবৃত্তিটিই এখানে নিষেধ করা হয়েছে। তবে কেউ যদি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কারো দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রকাশ করে সেটা করা যাবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গুপ্তচরবৃত্তিকে আগে থেকেই আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। আমরা যেটা করেছি, কম্পিউটার সিস্টেম বা ইনফরমেশন টেকনোলজির মধ্যে কেউ যদি গুপ্তচরবৃত্তি করেন, তাহলে সেটাকে অপরাধ বলে ধরা হয়েছে। সেটার সাথে সাংবাদিকতার কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমার মনে হয় না। আমার মনে হয়, এটা অহেতুক ভীতি আর সমালোচনার জন্য সমালোচনা করা। তিনি বলেন, অহেতুক, অযথা কারও হয়রানি হোক প্রধানমন্ত্রী তা চান না, সেজন্য কোনো আইনের মধ্যেও সে রকম কোনো ব্যবস্থা থাক তিনি চান নাই। সেই কারণে স্পষ্ট করেই এই ধারাগুলো দেওয়া হয়েছে। সম্প্রচার আইন পাস হওয়ার পর সাংবাদিকদের কেউ অহেতুক হয়রানি করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আপনি (সাংবাদিক) যদি ইলিগ্যাল কোনো জিনিসের কথা ছাপিয়ে দেন যে, কেউ চুরি করছে- সেটি অপরাধ হতে পারে না। কোনো বইতে নাই যে সেটা অপরাধ। কম্পিউটারের মধ্যে থাকলেও সেটা যদি ইলিগ্যাল হয়, আর আপনি যদি প্রকাশ করেন, সেটা অপরাধ হতে পারে না। তবে রাষ্ট্রীয় অতি গোপনীয় জিনিসটা যদি সঠিক হয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি অতি গোপনীয় রাখতে চায় সেটা তো আপনাদের প্রকাশ করা ঠিক হবে না। কারণ এটা অপরাধ, আগেও ছিল, এখনও আছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, কথা দিয়েছিলাম আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা থাকবে না। কেননা, এই ধারা ছিল অস্পষ্ট। মনে হচ্ছিল যেন এই ধারাতেই পৃথিবীর সব অপরাধ সন্নিহিত। ৫৭ ধারাটি সত্যিকার অর্থেই যেন সাংবাদিকদের জন্য হয়রানি ও নিবর্তনমূলক। এ কারণে আমি সাংবাদিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেছিলাম যে এই ধারা থাকবে না। এখন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সাংবাদিকদের জন্য হয়রানিমূলক নয়। অনেক স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে এই আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৭ থেকে ৩৬ দফা পর্যন্ত যে ধারাগুলো আছে, সেগুলো বিস্তারিতভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এখানে কোনো অস্পষ্টতা নেই। দণ্ডবিধিতেও এই অপরাধগুলোর প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে।