ছাত্র ধর্মঘটে ঢাবির কলাভবনে তালা

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভিসি কার্যালয় অবরোধ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ছাত্র ধর্মঘটের শুরুতে সোমবার সকালে কলাভবনের মূল ফটকে তালা দিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা।

সকাল ৭টার দিকে কলাভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে গেটে তালা লাগিয়ে দেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের জোটের নেতাকর্মীরা। পরে মিছিল নিয়ে তারা সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে যান ও মূল ফটকে তালা দিয়ে সেখানে সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আবারও কলাভবনের সামনে নেতাকর্মীরা।

তারা চলে যাওয়ার পর সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের কর্মচারীরা ফটকের তালা ভেঙে ফেলেন। এদিকে কলাভবনের পেছনের ফটক, প্রক্টর অফিসের গেট ও ডিন অফিসের গেট দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যেতে দেখা গেছে।

জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতাদের দাবি, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বতঃস্ফূতভাবে ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।

কলাভবনের সামনে উপস্থিত আছেন- ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাশ, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভা মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক সালমান সিদ্দিকী।

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মঘট শেষে বেলা ১২টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করবেন তারা।

চার দফা দাবিতে এ আন্দোলন করছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। তাদের দাবিগুলো হলো- ঢাবির ভিসি কার্যালয়ে ‘নীপিড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের’ বিক্ষোভে ছাত্রলীগের দুই দফা হামলার ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, প্রক্টর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন দেওয়া।

গত ২৩ জানুয়ারি বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী’ ব্যানারে উপাচার্যকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করা হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা গিয়ে তাদের পিটিয়ে বের করে দেয়।

অবশ্য ছাত্রলীগের দাবি, সেদিন অছাত্রদের হাত থেকে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গিয়েছিল তারা। আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বলেছে, সেদিন উপাচার্যের ওপর আক্রমণ হয়েছিল।

এরপর পাল্টা হিসেবে ‘সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে কর্মসূচিতে নামে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তাদের কর্মসূচি থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ে হামলাকারীদের বহিষ্কারের দাবি করা হয়।