২৯ জানুয়ারি সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক

নিউজ ডেস্ক:   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামী ২৯ জানুয়ারি সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এ ছাড়া আগামী ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সংহতি সমাবেশ ও ২৮ জানুয়ারি সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে তারা।

বুধবার মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলনে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ইমরান হাবীব রুমন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

প্রগতিশীল ছাত্র জোট ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, মার্কসবাদী সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ঐক্য ফোরাম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতারা।

ইমরান হাবিব রুমন বলেন, আদালত ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার রায় দিয়েছে। সেই নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যেই মঙ্গলবার ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

ভিসি কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে দুই দফা হামলার ঘটনায় দায়ী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, প্রক্টর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির সময় ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবারের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান ইমরান হাবীব।

সাত কলেজের অধিভুক্ত বাতিল চেয়ে ১১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামেন একদল শিক্ষার্থী। তবে আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছেন বাম কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ১৫ জানুয়ারি তারা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের হুমকি এবং ছাত্রীদের নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ১৭ জানুয়ারি বামপন্থী কয়েকটি ছাত্রসংগঠন, ডাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি দল ও সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীরা প্রক্টরকে সাড়ে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ওই ঘটনায় ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা হয়। এরপর থেকে আন্দোলন চলছে। ছাত্রলীগের হামলার বিচার, তাদের নামে দায়ের করা ভাংচুর মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে মঙ্গলবার ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দে’র ব্যানারে উপাচার্যের কার্যালয় অবরোধ করা হয়। এর আগে ঢাবি প্রশাসনকে ৪৮ কর্মঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় তারা; কিন্তু প্রশাসন তা মেনে নেয়নি। বামধারার ছাত্রসংগঠনগুলো এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি টিএসসি, কলাভবন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ঘুরে প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আসার চেষ্টা করে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ সময় নিজ অফিসেই ছিলেন।আন্দোলনকারীরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উপাচার্য ও প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান একাডেমিক মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে ফেলে। এ সময় ভিসির পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয় আন্দোলনকারীরা। পরে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আবিদ আল হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করে তার কার্যালয়ের নিয়ে যান। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে সাংবাদিকসহ প্রায় ৪০ জন আহত হন।