জিম্বাবুয়েকে ২১৭ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক: ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচ জিম্বাবুয়েকে জয়ের জন্য ২১৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ।

আগে ব্যাট করতে নেমে ১৭০ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে স্বল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সানজামুল, মোস্তাফিজ ও রুবেল হোসেনের দৃঢ়তায় নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ তামিম ইকবাল সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন। এছাড়া সাকিব আল হাসান করেন ৫১ রান। সানজামুল ১৯, মুশফিক ১৮ ও মোস্তাফিজ ১৮ রান করেন।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে গ্রায়েম ক্রেমার ৪টি, কাইল জার্ভিস ৩টি এবং টেন্ডাই চাতারা ও সিকান্দার রাজা একটি করে উইকেট নেন।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় মাত্র ৬ রানেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে উদ্বোধনী জুটিতে তামিমের সঙ্গী এনামুল হক বিদায় নিলে বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের পতন হয়।

এনামুল সাজঘরে ফেরার পর ব্যাট করতে নামেন সাকিব আল হাসান। গত দুই ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও নতুন ব্যাটিং পজিশনে দারুণ খেলেন সাকিব। তুলে নেন টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিমের সঙ্গে দলীয় স্কোরকার্ডে ১০৬ রান যোগ করেন তিনি। তবে অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দলীয় ১১২ রানে সিকান্দার রাজার বলে উইকেট থেকে বেরিয়ে সপাটে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৫১ রান করেন তিনি।

সাকিবের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা মুশফিকুর রহিম। তবে তিনি বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেননি। দলীয় ১৪৭ রানে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমারের বলে সুইপ শট খেলতে গিয়ে ঠিকমতো ব্যাটে-বলে করতে পারেননি মুশফিক। শর্ট ফাইন লেগে মুজারাবানিকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৮ রান করেন তিনি।

মুশফিকের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামা মাহমুদুল্লাহও বেশিক্ষণ উইকেটে দাঁড়াতে পারেননি। মাত্র দুই রান করে ক্রেমারের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

মাহমুদুল্লাহর বিদায়ের পর মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ, যার শুরু তামিম ইকবালকে দিয়ে। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে সপাটে খেলতে গিয়ে ক্রেমারের বলে স্ট্যাম্পিংয়ে শিকার হন দারুণ খেলতে থাকা তামিম। তিনি আউট হন ৭৬ রান করে।

তামিমের বিদায়ের পর সাব্বিরও দাঁড়াতে পারেননি বেশিক্ষণ। মাত্র চার রান পরেই পেসার জার্ভিসের বলে শর্ট মিডউইকেটে ক্রেইগ আরভিনের তালুবন্দি হয়ে বিদায় নেয়া সাব্বির করেন ৬ রান।

সাব্বিরের পর দলীয় ১৬৮ রানের নাসির হোসেনকেও সাজঘরে ফেরত পাঠান জার্ভিস। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সপ্তম উইকেটের পতন হয়। নাসির করেন ২ রান।

দলীয় ১৭০ রানে অধিনায়ক মাশরাফিকে উইকেটের পেছনে টেইলরের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে আবারও আঘাত হানেন ক্রেমার। ফলে ১৭০ রানেই বাংলাদেশের অষ্টম উইকেটের পতন হয়।

অষ্টম উইকেটের পতনের পর ব্যাট করতে নামে মোস্তাফিজুর রহমান। তাকে সঙ্গে নিয়ে ২৬ রানের জুটি গড়ে দলকে সম্মানজনক সংগ্রহের পথে নিয়ে যান সানজামুল। দলীয় ১৯৬ তিনি চাতারার বলে মুজারাবানির হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেওয়ার আগে ১৯ রান করেন তিনি।

সানজামুলের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামে শেষ ব্যাটসম্যান রুবেল হোসেন। শেষ উইকেট জুটিতে মোস্তাফিজ ও রুবেল ২০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ২১৬ রানের সংগ্রহ এনে দেন। শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজ ২২ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৮ এবং রুবেল একটি ছয়ের সাহায্যে ৪ বলে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ জেতায় এরই মধ্যে ফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের। অন্যদিকে ফাইনালে উঠতে এই ম্যাচ জয় পেতে হবে জিম্বাবুয়েকে।

এই ম্যাচে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে বসিয়ে দলে জায়গা দেওয়া হয়েছে স্পিনার সানজামুল ইসলামকে। অর্থাৎ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের একাদশই খেলাচ্ছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, এনামুল হক, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, সানজামুল ইসলাম।

জিম্বাবুয়ে দল: হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, সলোমন মিরে, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেইলর (উইকেটরক্ষক), সিকান্দার রাজা, পিটার মুর, ম্যালকম ওয়ালার, গ্রায়েম ক্রেমার (অধিনায়ক), কাইল জার্ভিস, টেন্ডাই চাতারা, ব্লেসিং মুজারাবানি।