নদীর কোনো সীমানা নেই, সবাই মিলেই তাকে বাঁচাতে হবে – ড. আতিউর রহমান

‘বাংলাদেশের নদীগুলো অভিভাবকহীন। মৎস্য বিভাগের এর অধিকার নেই। তারা বলে, পানি উন্নয়ন বোর্ড মালিক। ওরা বলে, ভূমি মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। তারা আবার বলে, আমরা কিছু জানি না। এ দেশের নদী ধ্বংসের একটি প্রধান কারণ, সচেতনভাবে কেউ-ই মালিকানা নেয় না, নদীর উন্নয়ন করে না। এর আসল মালিক ভূমি মন্ত্রণালয়। তারা তো এ ব্যাপারে কিছুই করে না। আসলে নদীর কোনো সীমারেখা নেই, সবাই মিলে তাকে বাচাতে হবে। টেকসই অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে আঞ্চলিক নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার নিয়ে তরুণদের উৎসাহী করতে হবে।’

২১ জানুয়ারি রাজধানীর নায়েমে রিভারাইন পিপল আয়োজিত চারদিন ব্যাপী রিভারাইন ক্যাম্প ২০১৮ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশের নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে। আমাদের সীমাহীন লোভ ও পরিবেশ অসচেতনতার কারণে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যাসহ কতো নদী মেরে ফেলছি। তাই ‘নদী বাঁচাও’ আন্দোলনে তরুণদের যুক্ত করা অবশ্যই জরুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ইনামুল হক, সৈয়দ মনোয়ার হোসেন এবং নায়েম এর মহাপরিচালক অধ্যাপক হামিদুল হক।
ড. আতিউর রহমান আরো বলেন, বিবিআইএন উপ-অঞ্চলের দেশগুলোর (বাংলাদেশ-ভূটান-ভারত-নেপাল) মধ্যে নদীপথে বাণিজ্য বাড়ানো গেলে তা সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তবে এই বাণিজ্য বৃদ্ধির যথেষ্ট সুফল যেন নদীর আশে পাশে বসবাসকারি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষরা বিশেষত চরের মানুষরা পান সেটা আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট এন্ড ট্রেড এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আন্ত:দেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আশার সঞ্চার করেছে। তবে এক্ষেত্রে নদীপথের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল বিনিয়োগ, নদীপথগুলোর নাব্যতা বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার মতো চ্যালেঞ্জগুলোও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, আমাদের স্বদেশের ঐতিহ্য বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে নদী পথে, জাহাজ ও নৌকো চলাচলের উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কেরালার ‘ব্যাকওয়াটার ক্রুজ’ বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে অতিপ্রিয়। তাহলে আমাদের নদীতে কেন আমরা পর্যটকদেও অপরূপ নিরাপদ ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে পারি না?