যশোর রোডের গাছ কাটায় ৬ মাসের স্থিতাবস্থা

নিউজ ডেস্ক: যশোর রোডের শতবর্ষী গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের জন্য স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

সর্বোচ্চ আদালতে এই আদেশের ফলে এ সময়ের মধ্যে ওইসব গাছ আর কাটা যাবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

গত ৬ জানুয়ারি যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় ‘যশোর রোড’ হিসেবে পরিচিত যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দু’পাশের গাছ কেটে রাস্তা প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যশোর রোডের ঐতিহাসিক গাছগুলো যাতে না কাটা হয়, তা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই সোচ্চার পরিবেশবাদীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সমালোচনা-প্রতিবাদের ঝড় চলছে। আসছে আন্দোলনের হুমকিও।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, যশোর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত এই মহাসড়কে শতবর্ষী গাছ রয়েছে প্রায় আড়াইশ’। আর নতুন-পুরনো মিলিয়ে রাস্তার দুই ধারে রয়েছে আড়াই থেকে তিন হাজার গাছ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই যশোর রোড দিয়ে লাখ লাখ শরণার্থী ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। শরণার্থীদের সেই ঢল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ নামে একটি কবিতা লেখেন। যুক্তরাষ্ট্রের গায়ক বব ডিলান সেই কবিতাকে গানে রূপ দিয়ে তা গেয়েছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তহবিল সংগ্রহের জন্য।

গত মার্চ মাসে সড়কটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রকল্প অনুমোদন হলে সড়কের দু’পাশের গাছ কেটে ফেলে রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু গাছগুলোকে কেটে রাস্তা সম্প্রসারণের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি বেশিরভাগ মানুষ। এ নিয়ে গণমাধ্যম সোচ্চার হলে সড়ক বিভাগ তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

এরপর জুলাইয়ে সড়ক বিভাগ ঘোষণা দেয়- আপাতত এ গাছগুলো রেখেই দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলকে সংযুক্তকারী যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের সংস্কারের উদ্যোগ নেবেন তারা। কিন্তু ৬ জানুয়ারি সভায় বিশেষজ্ঞ মতামতের উদ্বৃতি দিয়ে জানানো হয়, গাছগুলোকে রেখে রাস্তা প্রশস্ত করা সম্ভব নয়।