হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে সরকারের যোগসাজশ নেই: কাদের

নিউজ ডেস্ক: উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদের উপ-নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পেছনে সরকারের যোগসাজশের কোনো বিষয় নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার হাইকোর্টের ওই আদেশের পর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে সরকারের যোগসাজশের কোনো বিষয় নেই। আমরা এই নোংরা পলিটিক্স করি না, এতে বিশ্বাসও করি না।

তিনি বলেন, আদালতের রায়কে আমরা সম্মান করি বলেই আজকে কাউন্সিলের প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেও করিনি।

এর আগে সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

একই সঙ্গে ওই নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর ভাটারা ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের দুই চেয়ারম্যান ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট শাখায় দুটি রিট করেন।

রিটকারীরা হলেন- ভাটারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও বেরাইদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এএ জাহাঙ্গীর আলম। এর মধ্যে আতাউর রহমান ভাটারা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং জাহাঙ্গীর আলম বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

একটি রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, স্থানীয় সরকার সচিব, উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে বিবাদী করা হয়। অন্যটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব ও নির্বাচন কমিশনের যুগ্ন সচিবকে বিবাদী করা হয়।

আদালতে আতাউর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়া। জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে ছিলেন

মঙ্গলবার রিট দায়ের প্রসঙ্গে আইনজীবীআহসান হাবিব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। কিন্ত এখনও পর্যন্ত ভোটার তালিকাই প্রকাশ করা হয়নি। এখন যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কিন্ত জানেন না তিনি ভোটার কিনা। তা ছাড়া মনোনয়নপত্রে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধান রয়েছে। ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে সেটা কীভাবে সম্ভব? তাই পুরো বিষয়টি রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

তিনি বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টির ওয়ার্ড ধরলে কাউন্সিলরের সংখ্যা পঁচাত্তর শতাংশ হয় না। কারণ নতুন ১৮টিতে তো নির্বাচনই হয়নি। সে হিসাবে মেয়র পদই তো গঠিত হচ্ছে না। তা ছাড়া সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে যারা কাউন্সিলর হবেন, তারাও পুরো পাঁচ বছর থাকতে পারবেন না। অথচ সেখানে কিন্তু উপ-নির্বাচন হচ্ছে না। এ বিষয়গুলো মূলত রিটে তুলে ধরা হয়।

ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শুন্য হওয়া মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ঢাকার দক্ষিণ ও উত্তর সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কউন্সিলর নির্বাচনের জন্য গত ৯ জানুয়ারি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুসারে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের কথা ছিল

মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকের পর জানানো হয়, ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হবেন ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম।