শীতে মৌমাছির মৃত্যুতে মৌচাষিরা হতাশ

চাটমোহর প্রতিনিধি: মৌসুমের শুরুতে ইউরোপিয়ান হাইব্রিড এপিস মেলিফেরা মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠে গোটা চাটমোহরসহ চলনবিলাঞ্চল। ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি উড়ে গিয়ে সরিষা ফুলে বসে আর মধু নিয়ে ফেরে মৌ-বাক্সে। কিন্তু শীত বাড়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশা ও প্রবল শৈত্যপ্রবাহের কারণে মৌমাছিরা বাক্স থেকে বের হচ্ছে না। বের হলেও আর ফিরছে না বলে জানালেন ক্ষতিগ্রস্ত মৌচাষীরা।

মৌচাষীরা জানায়, প্রচন্ড ঠান্ডায় বেশির ভাগ মৌমাছি মারা যাচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা চলনবিলের ছয় শতাধিক মৌ-চাষির এখন মাথায় হাত। মৌমাছির মৃত্যুতে আর লোকসান তাদের হতাশ করে তুলেছে। চলনবিল এলাকায় মধু সংগ্রহ করতে আসা আলম শিকদার বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে মধু আহরণ করছি। কিন্তু এবার মাত্র কয়েক দিনের শীত ও শৈত্যপ্রবাহ সর্বনাশ করেছে। গত বছর দুই টন মধু আহরণ করেছি, এবার এক টনের বেশি সংগ্রহ করা যাবে না। বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া মৌ-চাষিরা বলেন, বাক্সের অধিকাংশ মৌমাছি মারা গেছে। ফলে এবার মধু সংগ্রহে বিপর্যয় ঘটেছে।

উত্তরাঞ্চল মৌ-চাষি সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চলতি মওসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলনবিল থেকে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টন মধু আহরণের সম্ভাবনা ছিল। প্রায় এক মাস আগে বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ছয় শতাধিক প্রশিক্ষিত মৌ-খামারি চলনবিলে অস্থায়ী আবাস গেড়েছেন। মৌ-চাষিরা সরষে ক্ষেতের আলে ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার মৌ-বাক্স বসিয়েছেন।

প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সরষে ফুলের মধু আহরণ চলে। এ সময়ে প্রত্যেক মৌ-চাষি গড়ে দুই থেকে আড়াই টন মধু আহরণ করতে পারেন। কিন্তু এবারের শীত আর শৈত্যপ্রবাহ মৌ-চাষিদের সর্বনাশ করেছে। সব মিলিয়ে ৫০০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করাই দুরূহ।

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় দ্বিগুণ মৌ-বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছিল মৌ-চাষিরা। এ অঞ্চলে উৎপাদিত ভেজালমুক্ত মধুর মান খুবই ভালো। এ জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের নামিদামি কোম্পানির এজেন্টরা চলনবিলের মাঠ থেকে অপরিশোধিত মধু অগ্রিম কেনা শুরু করে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে এখানে মধু সংগ্রহ পুরোদমে শুরু হয়।

প্রিন্স, ঢাকা