সরকারের নীতি নির্ধারণী বিষয়গুলো জনগণের কাছে তুলে ধরাই মেলার উদ্দেশ্য

 চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা (অতিরিক্ত সচিব) বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিগত ২০০৮ সালে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের কাছে ‘দিন বদলের সনদ’ ঘোষণা করেছিলেন।

২০০৯ সালে তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বহুমুখী উন্নয়নমূলক সেবা জনগণের দৌঁরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢেলে সাজিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক সূচকগুলো একের পর এক বাস্তবায়নসহ দেশের বিভিন্ন সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমানে উন্নয়নে মহাসড়কে বাংলাদেশের অবস্থান। তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সরকারের উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণী বিষয়গুলো জনগণের কাছে তুলে ধরার মুখ্য উদ্দেশ্যে এ মেলার আয়োজন। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযুগে অনুষ্ঠিত হওয়া উন্নয়ন মেলা সরকারের উন্নয়নে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ‘দিন বদলের সনদ’ বাস্তবায়ন সম্পর্কে জনগণ মেলায় এসে সরকারের বহুমুখী উন্নয়ন সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। মেলায় আগত সরকারি-বেসরকারি ১১৫টি প্রতিষ্ঠানের ১২৯টি স্টলে সরকারের সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরা হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় নগরীর এম.এ. আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসন আয়োজিত তিনদিনব্যাপি উন্নয়ন মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, এদেশকে সুখী-সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলায় রূপান্তর করার জাতির জনকের যে স্বপ্ন তা বাস্তবায়ন করতে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বহুমুখী উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২১ সালের আগে এদেশ একটি মধ্যম আয়ে উন্নীত, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও ২০৪১ সালের মধ্যে এ দেশ একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বলেন, তথ্য প্রযুক্তিতে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে সকল প্রকার যোগাযোগ সহজ হয়েছে। আমরা ঘরে বসে অনলাইনে ভ‚মি সেবাসহ আমরা ঘরে বসে অতি সহজে গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো পাচ্ছি।

জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, সরকারের বহুমুখী উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখাসহ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে দেশে আর কোনো ধরনের সমস্যা থাকবে না। কিন্তু দেশবিরোধী একটি চক্রান্ত সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। তিনি জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) মো: জিল্লুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা মুস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা (অতিরিক্ত সচিব), বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মাহবুব কবির (যুগ্ম সচিব), জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুকুর রহমান সিকদার। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. নায়েব আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের পদস্থ

কর্মকর্তা, বিমান, নৌ ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষে উন্নয়ন মেলায় আগত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টল প্রধান কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা (অতিরিক্ত সচিব)।

বিচারিক প্যানেলের নিরপেক্ষ রায়ে মেলায় শ্রেষ্ঠ স্টলের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ প্রথম স্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দ্বিতীয় স্থান এবং কৃষি মন্ত্রণালয় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। সন্ধ্যা ৬টায় মেলার মঞ্চে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।