আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা বা সংকট নেই: তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাাদিক সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা বা সংকট নেই। নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের সীমা সংবিধানে সুস্পষ্ট। বিএনপির সংলাপের প্রস্তাব কালক্ষেপণ, অনিশ্চয়তা ও সংকট সৃষ্টির অপপ্রয়াস। খালেদা জিয়া কালো চশমা খুলে বাংলাদেশের দিকে তাকালে, গণমাধ্যমে চোখ রাখলে উন্নয়ন দেখতে পাবেন।

তিনি বলেন সরকারের চারবছর পূর্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গত ১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের পর বিএনপি যে ঢালাও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি বলেছেন, দেশে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে স্পষ্টতা নেই, সংকট আছে, কোন দিক নির্দেশনা নেই, সমাধানে সংলাপ প্রয়োজন। বিএনপির ভাষায় দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে, মেগা প্রকল্পগুলোতে ডাকাতি হচ্ছে আর উন্নয়ন হচ্ছে পরিসংখ্যানের তেলেসমাতি। আমি প্রতিটি বিষয়ের জবাব দেব।

তিনি বলেন দেশে রাজনৈতিক, সাংবিধানিক বা নির্বাচন নিয়ে কোনো সংকট নেই। গণতন্ত্র সংকোচনে সাংবিধানিক আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে বিএনপি-জামাতের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিসন্ত্রাস মাথা চাড়া দিতে চায়, আগুনসন্ত্রাসের দায় তারা অস্বীকার করার চেষ্টা করে। ৯৩ দিনের আগুনসন্ত্রাসে তাদের নেতাকর্মীরা হাতেনাতে গ্রেপ্তারের স্বাক্ষী দেশবাসী। জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসবাদীদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে বিএনপি যুদ্ধাপরাধ, একুশে আগস্টসহ বড় বড় হত্যাকান্ডের বিচার বন্ধ করার যে অপতৎপরতায় লিপ্ত তা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য হুমকি। এই হুমকি মোকাবিলার জন্যই জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন।

তিনি বলেন খালেদা জিয়া ও বিএনপি ক্ষমতার কথা ভাবে, উন্নয়নের কথা নয়। আর সেজন্যই বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া তাদের নজর এড়িয়ে যায়। তারা জানেন না যে, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে তিনগুন বেড়ে আজ ১,৬১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানী বেড়েছে চারগুন, স্বাক্ষরতার হার ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৭১ শতাংশ হয়েছে, শিশু মৃত্যুর হার হাজারে ৪৮ জন থেকে কমে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে, খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে ১ কোটিরও বেশি মেট্রিক টন। বিএনপি আমলের ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ দারিদ্র্যের হার শেখ হাসিনা কমিয়ে ২২ শতাংশে নিয়ে এসেছেন। ২০০৬ সালে যেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল ৭৪৪ মিলিয়ন ডলার, এখন বিদেশিরা বিনিয়োগ করছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। বিস্তারিত খতিয়ান প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিয়েছেন।

তিনি বলেন কালো কাঁচের ভেতরে বসে কালো চশমায় উন্নয়ন দেখতে পারছেন না খালেদা জিয়া। কালো কাঁচ সরিয়ে, কালো চশমা নামিয়ে বাংলাদেশের দিকে তাকান, গণমাধ্যমে চোখ রাখুন-উন্নয়ন দেখতে পাবেন। দেশের মানুষের সাথে কথা বলুন-শুনতে পাবেন সবুজ, আধুনিক, ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে কিভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, উন্নয়ন ছুঁয়ে যাচ্ছে জীবন।

বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট-ব্রীজ, শিল্প-কারখানা, ভবনসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বছরের প্রথম দিনে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ৩৫ কোটি বই বিতরণ, ১৩ কোটি মোবাইল, ৭ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারি-কোনটাকে অস্বীকার করবে বিএনপি। মেগাপ্রকল্পের কোনো দুর্নীতি আজ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক আবিস্কার করতে পারেনি। বরং বিদেশে টাকা পাচার, সেকেন্ডহোম গড়ে তোলা বিএনপিই শুরু করেছিল, সরকার বন্ধ করেছে।

বিএনপি তাদের ৭৫০ কর্র্মী গুমের কথা বলেছে। আমি বলছি, তালিকা দিন আমরা খতিয়ে দেখবো। হেফাজতে ইসলাম ঢাকায় তাদের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হবার পর এমন কথাই বলেছিল, কিন্তু তালিকা চাওয়ার পর কারো নাম পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন পরিশেষে আমি বলবো, নির্বাচন-গণতন্ত্র-সংলাপ-সহায়ক সরকারের মুখোশ পরে বিএনপি নির্বাচন বানচালেরই চক্রান্তের জাল বিস্তার করছে। জনগণ ও সরকার তা প্রতিহত করবে।