পানের বাক্সেই সংসার চলে

 রাউজান প্রতিনিধি: জীবনযুদ্ধে সংগ্রামী এই মানুষটির নাম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। বাড়ি রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামে। তিনি দীর্ঘ ৪ বছর ধরেই নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারে স্কুল মার্কেটের সামনে ফুটপাতের উপর ছোট পানের বাক্সনিয়ে সারারাত জেগে ব্যবসা করেন। দিনে ঘরে থাকলেও রাতে থাকেন ওই মার্কেটের সামনে। তাই সবার কাছে তিনি নুরুল ইসলাম ভাই’ নামে পরিচিত।

নোয়াপাড়া স্কুল মার্কেটের সামনে ফুটপাতের উপর একটি পানের বাক্স নিয়ে বেচাবিক্রি করেন। বৃষ্টি হলে পানি গড়িয়ে পড়ে তার মাথায়,তার উপর ঠান্ডা শীত এসব কিছুর চিন্তা নাকরে থাকেন বেচাবিক্রির আশায়। এখন পৌষ মাস প্রচণ্ড শীত, মাথার ওপর নেই কিছু, শুধু গায়ে জামা পড়া তিনি, তারপরও তিনি বসে থাকেন বেচাকেনার আশায়।

শুধুমাত্র রাতের খাবার খেয়ে বসেন এখানে। রাত আটটার সময় হলে একটি পানের বাক্স নিয়ে বেচাবিক্রি শুরু করে সারারাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। আর ওই ছোট দোকানের বিক্রি দিয়েই তার সংসারের হাল ধরেন। টানাটানির সংসারে এখনো সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি। ছোট পানের দোকানের আয়ে আর এক সন্তান রিক্সা চালিয়ে সংসার চালান।

শেখপাড়া গ্রামের মাওলানা শফি উদ্দিন আল মাইজভাণ্ডারীর বাড়ীর মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, ১৯৭৩ সালে সাংসারিক জীবন শুরু করেন। এরপর থেকেই চলছে তার সংগ্রাম। মা বাবার পছন্দে ছেনোয়ারা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর সংসারের প্রতি দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। অনেক বছর ধরে রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাতেন। বিয়ের এক বছরের মাথায় জন্ম নেয় ছেলে। নাম রাখেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

এভাবে নুরুল ইসলাম ও ছেনোয়ারার সংসারে আসে ২ ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান। মেঝ ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে এক সময় তিনি ব্যবসা করতেন নোয়াপাড়ায়। হঠাৎ একদিন পুলিশ তার ছেলেকে দরে নিয়ে অনেক মারধর করে জেলে পাটিয়ে দেয়। অনেক কষ্টের পর তাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনলেও পুলিশের মারধরের আঘাতের কারণে এই ছেলেকে র্দীঘ দেড় বছর চিকিৎসা করেও বাঁচাতে পারেনি তিনি। সেই ছেলে মারা যাওয়ার পর থেকে অনেক কষ্টে চলে তার জীবন।

বড় ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন রিক্সা চালিয়ে সংসারের হালধরে,আর বড় মেয়ে রোজী আকতারকে বিয়ে দিতে হয়েছে অনেক কষ্টে। তার জীবন বৃত্তান্ত বলার সময় নুরুল ইসলামের চোখের পানি গড়িয়ে আসে। নুরুল ইসলাম জীবনে যা আয় করেছেন সবই ব্যয় করেছেন সন্তানদের পেছনে।

এখন বয়সের কারণে তেমন কিছু করতে পারছে না, তাই সামান্য পুঁজি দিয়ে শুরু করেন এই ব্যবসা, এখন তার ছোট এই পানের বাক্স নিয়েই শুধু স্বপ্ন। নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি যেখানে ব্যবসা করেন সেটি একটি মার্কেট এর সামনে হলেও চারবছর ধরে এখানে স্থানীয় লোক এবং নোয়াপাড়া ক্যাম্প পুলিশ সদস্যরা আমাকে সহযোগীতা করে,তাই রাত জেগে ব্যবসা করতে পারছি। আগে রিক্সা চালিয়েছি এখন বয়স বেড়ে যাওয়ায় রিক্সা চালাতে অক্ষম। তাই এখন শুধু পান বিক্রি চালু রেখেছেন। তিনি বলেন, অভাবের সংসার অনেক কষ্টকরে সন্তানদের লেখাপড়া করার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। দোয়া করবেন কি আর করব জীবন যতক্ষণ আছে ততক্ষণই সংগ্রাম করে চলতে হবে। তাই সন্তানের দিকে চেয়ে না থেকে তিনি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন ।

প্রিন্স, ঢাকা