অপরাহ্‌কে নিয়ে সংশয় ট্রাম্পের

নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের লড়াইয়ে হলিউড অভিনেত্রী ও টিভি হোস্ট অপরাহ্‌ উইনফ্রে লড়বেন না বলে মনে করেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরাহ্‌ আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন, এমন খবরের বিষয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অপরাহ্‌কে পছন্দ করি।’ তিনি অপরাহে্‌র শোতে অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন জানিয়ে বলেন, ‘আমি তাঁকে খুবই ভালো করে চিনি। আমার মনে হয় না তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন।’

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২০ সালের নভেম্বরে। এখনো প্রায় তিন বছর বাকি, কিন্তু এরই মধ্যে মার্কিন জনগণের মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেছে, কে হবেন ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী। গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার প্রদানের আসরে অপরাহে্‌র দেওয়া বক্তব্যের পর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তিনিই হতে যাচ্ছেন ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী।

এ বছর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে সেসিল বি ডিমিলে পুরস্কার পেয়েছেন অপরাহ্‌ উইনফ্রে। ১৯৫২ সালে পুরস্কারটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো নারী এই পুরস্কারে ভূষিত হননি। পুরস্কারটি গ্রহণের পর গোল্ডেন গ্লোবের মঞ্চে উঠে তিনি বেশ সোচ্চার বক্তব্য দেন। বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানস্থলের সবাই দাঁড়িয়ে সম্মানও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরবর্তী মার্কিন নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।

এরপর থেকেই বলা শুরু হয়েছে, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হবেন অপরাহ্‌ উইনফ্রে। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই তাঁকে প্রেসিডেন্ট অপরাহ্‌ নামে ডাকা শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে জল্পনাকল্পনার প্রথম সলতেটি উসকে দিয়েছেন গোল্ডেন গ্লোব অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সেথ মায়ার্স।

তিনি কিছুটা পরিহাসের সঙ্গেই বলেন, ২০১১ সালে হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তিনি ঠাট্টা করে বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্পূর্ণ অযোগ্য। সে কথা শুনেই নাকি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। ‘তা যদি সত্যি হয়, তো অপরাহ্‌ আপনাকে বলছি, আপনি কোনো দিন প্রেসিডেন্ট হবেন না, সে যোগ্যতাই আপনার নেই’।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের পর হলিউড তারকা মেরিল স্ট্রিপ ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘আমি চাই অপরাহ্‌ প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন।’ এরপর একে একে হলিউডের ডজন খানেক তারকা সে কথায় সায় দিয়েছেন। এমনকি একাধিক রিপাবলিকান নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ পর্যন্ত অপরাহর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

অপরাহ্‌ নিজে অবশ্য নির্বাচনী দৌড়ের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, এই ভাবনাটা তাঁর মাথায় রয়েছে। তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু টেডম্যান গ্রাহাম কিছুটা কূটনীতিকের ভাষায় বলেন, দেশের মানুষ যদি চায়, তাহলে অপরাহ্‌ অবশ্যই নির্বাচনে দাঁড়াবেন।