আমার সব সাফল্য প্রধানমন্ত্রীর: তারানা হালিম

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ‘আমার এযাবতকালের সব সাফল্য বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের। এখনকার নতুন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও আমি সততা, নিষ্ঠা, মেধা ও দক্ষতা দিয়ে সাথে পালন করবো। দুর্নীতির সাথে কখনো আপোষ করিনি, করবো না।’

রোববার সকালে তথ্য মন্ত্রণালয়ে যোগদান করে তথ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত ও মন্ত্রণালয়ে পরিচিতি সভার পরপরই তথ্য অধিদফতরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এসময় প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘তারানা হালিম আমার রাজনীতি, সংগ্রাম ও সংসদের পুরনো সাথী ও সহকর্মী। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও সংসদে তার ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একসাথে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করবো আমরা।’

তথ্যসচিব মো: নাসির উদ্দিন আহমেদ, প্রধান তথ্য অফিসার কামরুন নাহারসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তারাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে একজন কর্মী হিসেবে বর্ণনা করে তারানা হালিম বলেন, ‘মনে রাখবেন, আমার পূর্বের দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আমার যা কিছু সাফল্য তা শেখ হাসিনার সাফল্য। আমি যেটুকু অতীতে করতে পেরেছি তা শেখ হাসিনার অর্জন। আমি একজন কর্মী, কাজ করে যাব। দেশ, দেশের মানুষ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা করবো। আপনারা সাথে থাকবেন।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কম কথা ও বেশি কাজে বিশ^াসী। কাজ শেষে শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে সকল কাজ বুঝিয়ে দেব, তারপর কথা বলবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে যখন যে দায়িত্বই দেবেন সততা, দক্ষতা ও মেধা দিয়ে সে কাজই সঠিকভাবে করবো।’

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পূর্বতন মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করা শোভন হবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমি আমার আগের কাজের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরছি, কিন্তু পূর্বতন মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করে শোভনতার মাত্রা আমি অতিক্রম করবোনা।’

পূর্বতন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কার্যাদি তুলে ধরে তারানা হালিম বলেন, গত আড়াই বছরে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ১৪ কোটি ৭১ লক্ষে, ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ৭ কোটি ৭২ লক্ষে, টেলিঘনত্ব ৮৬.৬% ও ইন্টারনেট ঘনত্ব ৪৭.৬২% এ উন্নীত হয়েছে।

এবছরের ২৭ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন হবে বলে আশা করা যায়, উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের চুক্তি স্বাক্ষর থেকে শুরু করে স্যাটেলাইটের ১০০% নির্মাণ কাজ, স্যাটেলাইট পরিচালনার জন্য কোম্পানী গঠন, গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া, ২য় সাবমেরিন ক্যাবেলে দেশের যুক্ত হওয়া, কুয়াকাটায় ২য় সাবমেরিন ক্যাবেল এর ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন ও উদ্বোধন, রবি ও এয়ারটেলকে একীভূত করার মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য সৃষ্টি, আইক্যান (ওঈঅঅঘ) কর্তৃক ডট বাংলা ডোমেইন নেইম ২ বছর বিরতির পর পুণরায় যোগাযোগ স্থাপন করে বাংলাদেশের অনুকূলে বরাদ্দ, কলড্রপে (একের অধিক) অপারেটর কর্তৃক কল ফেরৎ নিশ্চিত করা হয়েছে, জানান তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে দেশে তৈরি মোবাইল ফোন উৎপাদনের অনুকুলে কর কাঠামো তৈরি, দেশের প্রথম স্মার্ট ফোন তৈরির কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু, মাত্র ৫ মাসে ১১ কোটি সিম এর বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন, সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক মনিটরিং প্লাটফরম স্থাপন, ডাক বিভাগের ২৩টি পয়েন্টে ই কমার্স চালু, ই-কমার্স জোরদার করার জন্য ১১৮টি যানবাহন যুক্ত করা, এজেন্ট ব্যাংকিং-এর পাইলট প্রজেক্ট চালু ও গণহত্যার ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ডাকটিকেট এলবাম প্রকাশের কথাও তুলে ধরেন তারানা হালিম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক বছরের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার আওতার বাইরে থাকা ৩ কোটি মানুষকে ব্যাংকিং সেবায় আনার লক্ষ্যে প্রণীত ডাক টাকার সফটওয়ার ৩ মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে। ডাক বিভাগ এসোসিও (অঝঙঈওঙ), উইটসা (ডওঞঝঅ), ই-এশিয়া (ঊ-অঝওঅ) পুরস্কার পেয়েছে ও ইউনিভার্সাল পোাস্টাল ইউনিয়নের (টচট) সদস্য হয়েছে। টেলিকম নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে, টেলিটকের রি-ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে রিটেইলার শাখা ৩৬,০০০ থেকে ৫৬,০০০টিতে বৃদ্ধি ও টেলিটকের কাস্টমার কেয়ার সেন্টরের সংখ্যা ৭৪ থেকে ৯৭ তে উন্নীত হয়েছে। টেলিটকের এমইপি (গঊচ) প্রকল্পের মাধ্যমে জুনের মধ্যে যুক্ত হবে ১,৭০০ টি বিটিএস (ইঞঝ) ও ১,৫০০টি নোড-বি (ঘঙউঊ-ই), ফলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক আরো উন্নত হবে। ফোর-জি গাইডলাইন অনুমোদন হয়েছে।

লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে ছাড় করানো বিষয়ে অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, টেশিসের ২৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি, খুলনা কেবলের নেট সর্বোচ্চ মুনাফা, ডাক বিভাগ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক আয় (যা শেষ ৪ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ কোটি টাকা বেশি), মোবাইল নেটওয়ার্কের মানোন্নয়নে স্পেকট্রাম অকশন টেক নিউট্র্যালিটি প্রদান ও ৬৪০০০ কি:মি: অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপিত হয়েছে।

বার্ষিক প্রকল্প বাস্তবায়নে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরপর দু’বার ১ম স্থানে ছিল উল্লেখ করে তারানা হালিম বলেন, টেলিটকের বহু কক্সিক্ষত ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড় পেয়েছে, এর ফলে সকল উপজেলা নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। শুরু হবে পরিবর্তনের পালা।