শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের মানববন্ধন

????????????????????????????????????

ঢাকা প্রতিনিধি: সিলেটের জাফলংয়ে জুমপাড় মন্দির এলাকায় নানু মিয়ার পাথর কোয়ারিতে গর্তের মাটি ধসে এক নারীসহ চার শ্রমিক নিহত ও তিন শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত ও আট শ্রমিক আহতের ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম রবিবার ৭ জানুয়ারী, ২০১৮ বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা.ওয়াজেদুল ইসলাম খান এর সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আবুল হোসাইন, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের সদস্য সচিব এবং বিল্স এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এএম ফয়েজ হোসাইন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের শামসুন্নাহার প্রমুখ।

এছাড়া এসএনএফ ভুক্ত বিভিন্ন মানবাধিকার, শ্রমিক অধিকার, আইনী সহায়তা প্রদানকারী বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন সমুহের প্রতিনিধি সহ জাতীয় পর্যায়ের ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনসমুহের নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বেসরকারী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

মানববন্ধনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করে পাথর কোয়ারিতে শ্রমিক মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করার দাবি জানিয়ে বলেন, সারা বছর জুড়েই একের পর এক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে শ্রমিকরা এবং এ মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। তারা বলেন, গত বছর নিহতদের সংখ্যা ৩২ ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। একই সাথে তারা নির্মাণ খাতে শ্রমিক মৃত্যু রোধ করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আর সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে পাথর কোয়ারিতে পরিদর্শন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় শ্রমিকের জীবনের ঝুঁকি ও প্রাণহানি বাড়তেই থাকবে। এ ছাড়াও শ্রম আইন বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর’ এর মাধ্যমে উপরোক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তারা।

পাশাপাশি এসব ঘটনায় নিয়োগকারীসহ দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি বিধান করা, হতাহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি সারাদেশে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে শ্রম আইন বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।