বিগ্রেডের দ্বারা মুক্তি পেল সাত কিশোরী

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: অপ্রাপ্ত বয়সে মেয়েদের বিয়ে বন্ধের জন্য সরকার কঠোর আইন প্রণয়ন করেছেন। বিয়ের দিন বন্ধ করলে সামাজিক ভাবে পারিবারিক হেয় করা সহ নানান ভোগান্তিতে পরে ঐ পরিবার। বিয়ের দিন বন্ধ না করে সচেতনতার মাধ্যমে বাল্যবিয়ে রোধে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ইউএনও আবু জাফর রিপনের সার্বিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে বিগ্রেড।

স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ব্রিগেড উঠান বৈঠক সহ এলাকায় সাইকেল চালিয়ে সচেতনতার বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা ঋষিপাড়ায় দুই ঘন্টাব্যাপী চলে উঠান বৈঠক। ইতিমধ্যেই গত তিন মাসে বিগ্রেড কর্মীরা ৭টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন। সচেতন করেছেন প্রায় শতাধিক পরিবারকে।

ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলায় অবহেলিত ঋষিপাড়ার ৩৯টি পরিবারের জনসংখ্যা প্রায় আড়াই শতাধিক। যেখানে শিক্ষার হার নেই বললেই চলে। জুতা সেলাই করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে সেখানে স্কুলে যাওয়া আসা করে মাত্র ২০ জন শিশু-কিশোর। অভাব অনটনের শৃংখলে আবদ্ধ অসচেতন ওই ঋষি (মুচি) সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে কোন ধারণায় নেই।

এছাড়া আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার ধারণা নিয়ে তারা ১০ থেকে ১২ বছর বয়সে মেয়েদেরকে তুলে দেন বরের হাতে। সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পারেন বিগ্রেড কর্মীরা। পরে বাল্যবিয়ে রোধে নিরন্তর কাজ করে যাওয়া ইউএনও আবু জাফর রিপনকে অবগত করলে তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে ছুটে যান ধলা ঋষিপাড়ায়।

ঋষি সম্প্রদায়ের প্রায় দেড় শতাধিক সদস্যদের নিয়ে দুই ঘন্টাব্যাপি চলে উঠান বৈঠক। বৈঠকে বাল্যবিয়ের বিভিন্ন কুফল সম্পর্কে বিষদ আলোচনা করেন বিগ্রেড কর্মীরা ও উদ্যোক্তা ইউএনও আবু জাফর রিপন। আলোচনা শেষে ওই সম্প্রদায়ের লোকজন ইউএনও কে আশস্ত করেন তারা আর বাল্য বিয়ে দিবেন না।

চার মেয়ে এক ছেলের জননী লক্ষী রানী ঋষি বলেন, অভাব অনটনের সংসারে মেয়েদের লেখাপড়া বা দীর্ঘদিন ঘরে রাখা সম্ভব হয়না। তাছাড়া বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে যথেষ্ট ধারনাও আমাদের ছিলনা। বিগ্রেডের মেয়েদের সুবাদে আমরা এখন সচেতন হতে পারছি। বাল্যবিয়ে থেকে আমরা দুরে সরে আসতে চাই।

ঋষি পাড়ার মেয়ে ববি জানান, এই প্রথম আমিই এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করছি। আমি বাল্যবিয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি এবং লেখাপড়া শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অবহেলিত ঋষি সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে চাই।

ধলা স্কুল এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিগ্রেড দলপতি মাহবুবা আলম তৃপ্তি জানান, ইতিমধ্যেই আমরা এই ইউনিয়নের ৭টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে পেরেছি। এসব পরিবার ৯ম দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের বিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে আমরা তাদের অভিভাবকদেরকে সচেতন করার মাধ্যমে বাল্য বিয়ে বন্ধ করি। এখন এসকল স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে।

স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজ সেবক বিগ্রেড সমন্বয়কারী রফিকুল আলম জানান, এই মহৎ কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে নিজেকে গর্ববোধ করছি। বিগ্রেডের মেয়েদের পাশে থেকে বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে নিরন্তর কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে ইউএনও স্যারকে নিয়ে উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছি।

বিগ্রেড উদ্যোক্তা ইউএনও আবু জাফর রিপন বলেন, আমরা পরীক্ষামূলক ভাবে একটি ইউনিয়নে বাল্যবিয়ে রোধে বিগ্রেড গঠন করেছিলাম। এই বিগ্রেডের সফলতা দেখে আরো কয়েকটি ইউনিয়নে এ কার্যক্রমের প্রসার ঘটাতে খুব দ্রুত কাজ শুরু করব।

প্রিন্স, ঢাকা