তৃণমুল গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরজেএফ

ঢাকা প্রতিনিধি: রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)’র চেয়ারম্যান এস.এম জহিরুল ইসলাম বলেছেন, গ্রামীণ জনপদে কর্মরত তৃণমুল গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করি বলে আমার অনেক শত্রু। তবুও গ্রামীণ জনপদে কর্মরত তৃণমুল গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে চলছি।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস প্রচার, সংরক্ষন, নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্ভূত করতে কাজ করি এটাও অনেকের কাছে ভাল লাগে না। সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমার অভ্যাস এটাও অনেকে পছন্দ করে না। সুতরাং শত্রুতো আমার থাকবেই।

এস.এম জহিরুল ইসলাম বলেন, ২০০৭ সালের শেষের দিকে যখন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। মানুষের বাকশক্তি পর্যন্ত ছিল না। বড় বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ কারাগারে ছিলেন। ঐ সময়টাকে আমরা ১/১১ বলে থাকি। ঠিক সেই সময় আমরা কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তৃণমূল গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) গঠন করি।

দেশে একটি প্রশিক্ষিত সাংবাদিক সমাজ গড়ার লক্ষে কাজ করছে এই সংগঠনটি। গ্রামীন জনপদে যে সব গণমাধ্যমকর্মী দিনরাত সংবাদের পিছনে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করে এবং সংবাদপত্রে পরিবেশন করে তাদের কোন নাগরিক অধিকার নেই, নেই মানবাধিকারও। যে গণমাধ্যমে কর্মরত সেই গণমাধ্যম থেকে কোন অর্থনৈতিক সুবিধা তো পায়ই না বরং নানা কারনে লাঞ্চনার শিকার হতে হয় গণমাধ্যম কর্মীদের।

একজন তৃণমূল গণমাধ্যম কর্মী একাধারে উন্নয়ন, সমস্যা, সম্ভাবনা, অপরাধ, ক্রীড়া, সামাজিক অবক্ষয় রোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাই প্রতিবেদন তৈরী করে। আর সেই কাজটি সফলভাবে করতে গিয়ে একজন গণমাধ্যম কর্মীর অনেক কষ্ট শিকার করতে হয়। এটা অনেকেই বুঝতে চায় না। গণমাধ্যম কর্মীরা অনেক সময় অযথাই মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে হয়রানী হয়।

এসব সমস্যাসহ হাজারো সমস্যা নিয়ে শুধু দেশ প্রেমের দায় নিয়ে একজন তৃণমূল গণমাধ্যমকর্মী কাজ করে থাকে। কিন্তু রাষ্ট্র তার কি কোন খবর রাখে? সংবিধানে বলা হয়েছে সংবাদপত্র রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ এবং সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। কিন্তু একজন তৃণমূল গণমাধ্যম কর্মীরা কি সাংবিধানিকভাবে তার অধিকারটুকু পায় ? কখনই পায় না।

এই যে বৈষম্য এটা আমাদের ভাল লাগে না। আমাদের কথা হল, সকল গণমাধ্যম কর্মীদের সমানভাবে সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। বর্তমান সময়ে লক্ষ্য করা গেছে যে, গণমাধ্যম কর্মী সেই কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেশের নানা রকম সংবাদ জাতির কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে সে নাকি সাংবাদিক না। আর যিনি শহরে সু-সজ্জিত অফিসে বসে বছরে একটা সংবাদ তৈরী করে তিনি বড় সাংবাদিক।

এই যে তৃণমূল গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে সব সময় একশ্রেণীর মানুষ অবহেলায় মেতে থাকে। প্রশাসনও সেই সুযোগ নেয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য বিগত ১১ বছর যাবৎ শুধু রাজনৈতিক নয়, দেশের সকল সামাজিক সংকট উত্তরনে কাজ করছে রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)। আরজেএফ’র চেয়ারম্যান এস.এম জহিরুল ইসলাম বলেন, সত্য কথা বলতে গেলে মানুষের শত্রুতো হতে হবেই।

আমি এক শ্রেণীর পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশকদের সমালোচনা করি। তারা পত্রিকা প্রকাশ করুক আর না করুক সাংবাদিক তৈরীতে সব সময় ব্যস্ত থাকে। গ্রাম থেকে না বুজে কোন যুবক ঢাকায় এসে ঐ সব সম্পাদকদের কিছু টাকা দিলেই সে সাংবাদিক বনে যায়। তাতে কোন শিক্ষা বা বাস্তব অভিজ্ঞতা লাগে না। আমি প্রায়ই বলি চাঁদাবাজ সৃষ্টিতে ঐ শ্রেণীর সম্পাদকরা ওস্তাদ। পত্রিকার একটি পরিচয়পত্র নিয়ে এলাকায় গিয়ে ঐ যুবক কি করবে সেটা সে নিজেও জানে না। এটা বন্ধ করতে হবে।

আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ বলে আসছি যারা গণমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট লোক নয়, এমন কাউকে যেন পত্রিকার ডিক্লারেশন না দেয়া হয়। তো আমি যাদের বিরুদ্ধে কথা বলি, যাদের অনৈতিক কর্মকা-ের সমালোচনা করি তারাতো আমার ক্ষতি করতেই চাইবে। শুধু পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক নয় ইদানিং গজিয়ে ওঠা কিছু সংগঠনও পরিচয়পত্র বিক্রি, সার্টিফিকেট বিক্রিসহ সংগঠনের নামে চাঁদাবাজী করছে।

তাদের বিরুদ্ধে রুর‌্যাল জার্নাষ্টি ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) স্বেচ্ছার। গণমাধ্যম সেক্টর থেকে সকল অনিয়ম দূর্ণীতি দূর করে একটি স্বচ্ছ শিল্প সেক্টর হিসাবে গড়ে তুলতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আরজেএফ চেয়ারম্যান এস.এম জহিরুল ইসলাম বলেন, রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)’র বর্তমানে সাধারণ সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩৭০০। সারা দেশে প্রায় ৪০টি জেলা ১০৮টি উপজেলা ও অন্যান্য ১৪টি সাংগঠনিক কমিটি রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আরজেএফ’র মাধ্যমে প্রশিক্ষন নিয়ে থাকে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল থেকে ২০০ জন, বাংলাদেশ ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে ১০০ জন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ৫০ জন সাংবাদিক বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষন গ্রহণ করেছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে আরজেএফ সেক্টর কমান্ডার ফোরম মুক্তিযুদ্ধ-৭১, বংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ন্যাশনাল এফ এফ ফাউন্ডেশন, ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্রের সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে। বিভিন্ন বিষয়ে সংকট উত্তরণ ও জাতীয় দিবসে সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করছে আরজেএফ।

অর্থ আত্মসাৎ ও সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমের জন্য ২০১১ সালে আরজেএফ থেকে কয়েকজন সদস্য বহিস্কার হয়। তারা বেশ কয়েকবার নিজেরা এবং ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দ্বারা আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। এখনও তাদের সে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমার শেষ কথা হলো, তৃণমুল কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যদি আমার জীবন দিতে হয়, তাতেও আমি পিছ পা হব না।

সাংবাদিেেকদর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আরজেএফ মাঠে ছিল আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বলেন, সাগর-রুনী হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজের আন্দোলন আরজেএফ সামনের সারিতে ছিল। আমরা সকল সাংবাদিক হত্যাকা-ের বিচার চাই।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ সংক্রান্ত সকল মামলা বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে রুজু করা হোক। গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ণের দাবি সহ ১৪ দফা আন্দোলনে আমরা মাঠে আছি। যারা আরজেএফ’র এই গতিকে থামাতে ষড়যন্ত্র করছে তারা কখনই সফল হবে না ইনশাআল্লাহ।