এবি ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০ মিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরব বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংকের ৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য জানান, দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন এবং সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।

তিনি জানান, আজ যে ৫ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন- ব্যাংকটির হেড অব করপোরেট মাহফুজ উল ইসলাম, হেড অব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) মোহাম্মদ লোকমান, ওবিইউর কর্মকর্তা মো. আরিফ নেয়াজ, ব্যাংক কোম্পানি সেক্রেটারি মহাদেব সরকার সুমন ও প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা এম. এন. আজিম।

গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের নোটিশে তাদের তলব করা হয়েছিল। একই অভিযোগে গত ২৮ ও ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও প্রাক্তন ২ ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তারা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে ব্যাংকটির ১২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগের সঙ্গে এসব কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয় দুদক।

দুদক জানায়, পিজিএফ নামে দুবাইভিত্তিক একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে ২০ মিলিয়ন ডলার ঋণ হিসেবে দেওয়ার কথা বললেও, ওই কোম্পানির কোনো কর্মকর্তাদের নাম বা পরিচয় কাগজপত্রে দেখাতে পারেনি এবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বরং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই টাকা ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করেছে। ৩ কিস্তিতে ওই টাকা দুবাই যাওয়ার পর ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেয় প্রতারক চক্র। যার কোনো তথ্য এবি ব্যাংকের কাছে নেই।

ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে খুররাম ও আবদুস সামাদ নামে ২ ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া দুদক ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার একাধিকবার দুবাই যাতায়াতের প্রমাণ পেয়েছে।

গত ২১ ডিসেম্বর এবি ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ ও পরিচালক ব্যারিস্টার ফাহিমুল হক পদত্যাগ করেন। রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তারা পদত্যাগ করেন।