শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সূচক

* অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম।

* ধারাবাহিকভাবে ৬.৫ শতাংশ হারে প্রবৃৃদ্ধি ধরে রেখে পুরো বিশ্বকে আমরা তাক লাগিয়ে দিয়েছি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.১১ শতাংশ। ২০১৬-১৭-তে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।

* প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্স-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৯তম ও ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হবে।

* জনগণের মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে আজ ১ হাজার ৬১০ ডলার হয়েছে।

* দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালে ছিল ৪১.৫ শতাংশ। এখন তা হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২২.৪ শতাংশ। অতি দারিদ্র্যের হার ২৪.২৩ থেকে ১২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৫-১৬ শতাংশে এবং অতি দারিদ্র্যে হার ৭-৮ শতাংশে নামিয়ে আনা।

* ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে।

* সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

* বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ শক্তভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমানে ৩৩.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও ওপর।

* ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ১০.৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

* বিগত আট বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৭৩ হাজার কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। নারী কর্মীর সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার।

* একদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যেমন বেড়েছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকায় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে। ২০০৯ সালে মূল্যস্ফীতি ছিল ডাবল ডিজিটে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশ।

* ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১৬১৪৯ মেগাওয়াট। দেশের ৮৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ১১৯টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে।

* নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং প্রত্যন্ত চরাঞ্চলসহ সারাদেশে প্রায় ৪৫ লাখ সোলার হোমসিস্টেম বসানো হয়েছে। মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ উৎপাদন করা হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে।

* পাবনার রূপপুরে ২০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

* ৯ বছরে দেশে কৃষি খাতের ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যশস্য (চাল, গম ও ভুট্টা) উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন।

* মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ এবং সবজি উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে। বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ চাল উৎপাদনকারী দেশ।

* কৃষি সহায়তা কৃষক পর্যায়ে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ২ কোটি ৫ লাখ ৪৪ হাজার ২০৮টি কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৬৪টি এবং এসব ব্যাংক হিসাবে ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত ২৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা সঞ্চিত হয়েছে।

* ৯ বছরে প্রায় ৬১ হাজার ২৯৮ কোটি টাকার কৃষি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গত অর্থবছরে ১৮ লাখ ৪৭ হাজার নারী কৃষক ও উদ্যোক্তার মাঝে ৬,২৪০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বর্গাচাষিদের জন্য কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে বিনা জামানতে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

* ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৩০৬ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪,২৮৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

* প্রথমবারের মতো প্রাণিসম্পদ খাতের সার্বিক উন্নয়নে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ২৩-২৭ ফেব্রুয়ারি-২০১৭ পাঁচ দিনব্যাপী ‘প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ-২০১৭’ পালন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজ ও সিরাজগঞ্জ ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপিত হয়েছে। গাইবান্ধা, গোপালগঞ্জ, নেত্রকোনা, ডুমুরিয়া এবং নাছিরনগরে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

* ১৯৯৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও দুস্থ নারী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি চালু করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অধীনে চলতি বছর ১৪৫টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

* এই কর্মসূচি বাবদ ২০০৮-০৯ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত আট বছরে ২ লাখ ২৯ হাজার ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

* ৩১ লাখ ৫০ হাজার বয়স্ক ভাতাভোগীকে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান।
১১ লাখ ৫০ হাজার বিধবা স্বামী নিগৃহীত, দুস্থ মহিলাকে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান। ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগী দুস্থ মহিলা সংখ্যা ১০,০০,০০০। মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫ লাখে উন্নীত হয়েছে।

* কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৩০০ দরিদ্র মা-কে ভাতা প্রদান।

* সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল’ প্রণয়ন করেছে।

* সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) কর্তৃক আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকা-ে ৫ লাখ দরিদ্র পরিবারকে মোট ১ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪৭ হাজার ৪৯৮টি দুস্থ পরিবারকে এককালীন অনুদান হিসেবে মোট ২৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় ৩ হাজার ১৩৭ কিলোমিটার রাস্তা, ৫ হাজার ৮৩৯টি কালভার্ট, ৯ হাজার ৪৯১টি নলকূপ এবং ২ হাজার ১২৪টি গ্রাম সমিতির অফিস নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। ফলে ৬৯.৫ লাখ কর্মদিবস সৃষ্টির মাধ্যমে ৫ লাখ দরিদ্র পরিবারের কর্মসংস্থান হয়েছে।

* বাজেটে নারী শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথমবারের মতো ১০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ। নারী শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিক শিল্পনগরীতে ১০ শতাংশ প্লট বাধ্যতামূলক সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

* সারাদেশে হতদরিদ্র ১০ লাখ মহিলাকে মাসিক ৩০ কেজি চাল প্রদান করা হচ্ছে।

* হিজড়া এবং বেদে সম্প্রদায়ের জন্য ৬০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। চা-শ্রমিকদের জন্য অনুদান ১০ কোটি থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ কোটি করা হয়েছে।

* একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অধীনে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ১০০টি শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে।

* আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং গৃহায়ণ কর্মসূচিসহ অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ৮০ হাজার পরিবার পুনর্বাসন করা হবে।

* ২০১৬-এর সেপ্টেম্বর থেকে ৫০ লাখ পরিবারকে প্রতিকেজি ১০ টাকা মূল্যে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।

* ঘূর্ণিঝড়-আক্রান্ত ও নদী ভাঙনকবলিত ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণের পর এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার পরিবার পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং ২০ হাজার ৭৭৫টি গৃহহীন পরিবারকে নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩১৮টি পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য ৬৪টি ব্যারাক নির্মাণপূর্বক ৩১৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

* ২০১০ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচি শুরু করা হয়। গত ৯ বছরে সর্বমোট প্রায় ২৬০ কোটি ৮৫ লাখ ৯১ হাজার ২৮০টি বই বিতরণ করা হয়েছে। বিশ্বে বিনামূল্যে বই বিতরণের এমন নজির নেই। ২০১৮ সালে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

* মায়ের হাসি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মায়েদের কাছে মোবাইল ফোনে উপবৃত্তির টাকা পাঠানো হচ্ছে।

* ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। একইসাথে এসব বিদ্যালয়ের ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি সরকারি করা হয়।

* বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ১ হাজার ৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওকতায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪১২টি বিদ্যালয় নির্মাণকাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৮৩টি বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

* ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ১৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ৬৫টি ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

* দেশের ৩১৫টি উপজেলায় কোনো সরকারি স্কুল ছিল না। ইতোমধ্যে ১৩৬টি উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণের সম্মতি প্রদান করা হয়েছে। আরও ২০২টি বিদ্যালয় পর্যায়ক্রমে সরকারি করা হবে।

* প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়েছে। ২০০১-এ বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষার হার ৬৫ থেকে ৪৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। বর্তমানে দেশে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ।

* ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

* একই সময়ে বেসরকারি খাতে ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪২ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৬।

* চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে দুটি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আইন পাস করা হয়েছে।

* কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে প্রথম পর্যায়ে ১০০টি উপজেলায় ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৮৯টি উপজেলায় আরও ৩৮৯টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন করা হবে।

* কিশোরগঞ্জ, মাগুরা, মৌলভিবাজার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় একটি করে মোট ৪টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। আরও ২৩টি জেলায় বিশ্বমানের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগীয় সদরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগীয় সদরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।

* ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হবে। ৮টি বিভাগীয় শহরে ৮টি মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন করা হবে।

* স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১৬ হাজার ৪৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

* ৬৪টি জেলা হাসপাতাল ও ৪২১টি উপজেলা হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে রোগী শহরের হাসপাতালে না এসেও বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারছেন। বর্তমানে ৪৩টি হাসপাতাল ও ৩০টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে স্কাইপির মাধ্যমে টেলিমেডিসিন-সেবা দেওয়া হচ্ছে।

* আট বছরে ১২ হাজার ৭২৮ সহকারী সার্জন এবং ১১৮ ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ১৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রায় সাড়ে ১২ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

* গড় আয়ু ৭১ বছর ৭ মাস। মাতৃমৃত্যু প্রতিহাজারে ১.৮ জনে এবং শিশুমৃত্যু ২৯ জনে হ্রাস পেয়েছে।

* গত আট বছরে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ২৪টি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার শয্যা বাড়ানো হয়েছে।

* ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণকালে দেশে মোট সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ছিল ১৪, যা বর্তমানে ৩৬টিতে উন্নীত হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৬৯। সরকারি-বেসরকারি মিলে ডেন্টাল কলেজের সংখ্যা ২৮।

* সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের ঐকান্তিক আগ্রহ এবং নিরলস প্রচেষ্টায় অটিজমের মতো মানবিক স্বাস্থ্য সমস্যাটি বিশ্বসমাজের দৃষ্টিতে আনা সম্ভব হয়েছে। অটিস্টিক শিশুদের সুরক্ষায় ২২টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

* অচিরেই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ১ লাখ পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্যকার্ড এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সব দরিদ্র পরিবারের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।

* বিগত ৯ বছরে যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আট বছরে ৩৬৮.৬২ কিমি জাতীয় মহাসড়ক চার-লেনে উন্নীত হয়েছে। ৪৮টি বৃহৎ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড বহুমুখী উড়াল সেতু, মিরপুর-বিমানবন্দর জিল্লুর রহমান উড়াল সেতু, বনানী ওভারপাস, মেয়র হানিফ উড়াল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হবে চীনের অর্থায়নে।

* বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রায় ৯ কিমি দীর্ঘ বহুল প্রতীক্ষিত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধন করা হয়েছে।

* মেট্রোরেল নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার-লেন চালু হয়েছে। নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা সড়ক এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক চার-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার-লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে।

* যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম আট-লেনের মহাসড়ক চালু করা হয়েছে।

* নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা এবং দ্বিতীয় গোমতি সেতু নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

* ঢাকার যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৬ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার বিদ্যমান রেলপথ সংস্কার করা হয়েছে। ৪৫ দশমিক ২১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। ৪৭টি নতুন রেলসেতু ১০টি নতুন স্টেশন, ২২টি রেলসেতু পুনর্নির্মাণ, ৬টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে।

* আওয়ামী লীগ সরকার রেলওয়েকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দ্রুতগতিসম্পন্ন এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হয়েছে। ইলেকট্রিক ট্রেন ও পাতাল ট্রেনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

* রাজধানী ঢাকার চারদিকে সার্কুলার ট্রেনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। সার্কুলার ট্রেন চালানো গেলে যানজট আর থাকবে না। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে রেলওয়ের যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

* সরকার নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে যাত্রী পরিবহনের জন্য ৪৫টি নৌযান নির্মাণ ও চালু করেছে। দুটি যাত্রীবাহী জাহাজ ও ৪টি সি-ট্রাক জাতীয় নৌ পরিবহনে সংযুক্ত হয়েছে। নৌ-পথের নাব্য বৃদ্ধি করতে ১৪টি ড্রেজার কেনা হয়েছে। আরও ১৭টি ড্রেজার ক্রয় প্রক্রিয়াধীন আছে।

* ৪টি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা ও বরিশাল নদীবন্দরকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। কাঁচপুর, সন্দ্বীপ ও কুমিরায় নৌযানের ল্যান্ডিং সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

* এক সময়ের মৃতপ্রায় মোংলা বন্দর বর্তমান সরকারের সময়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

* দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধি পাচ্ছে। পায়রা বন্দরের সাথে সরাসরি রেল যোগযোগ স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

* আমরা বাংলাদেশ বিমানের জন্য ৬টি সুপরিসর উড়োজাহাজ সংগ্রহ করেছি। ২০১৮ সাল নাগাদ আরও ৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

* পদ্মাসেতুর অন্য প্রান্তে মাদারীপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ সমীক্ষার কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

* কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়ক চালু করা হয়েছে।

* সেপ্টেম্বর-২০১৭ পর্যন্ত দেশের ১৬৪টি পৌরসভা ও ১০টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ১ হাজার ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা, ড্রেন, অফিস ভবন, পাবলিক টয়লেট, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে।

* আট বছরে ৫ হাজার ২৭৫টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ৩২১টি পৌরসভা এবং ৪০৭টি সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ৮ হাজার ২০০ ই-পোস্ট অফিস থেকে জনগণ ২০০ ধরনের ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটিরও বেশি সেবাগ্রহীতা ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেছেন। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দৈনন্দিন কাজে দরকার এমন অনেক মোবাইল অ্যাপস চালু করা হয়েছে। লার্নিং আর্নিং-এর মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। ‘সরকারি সকল সেবা এক ঠিকানায়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সেবাকুঞ্জ বা সার্ভিস পোর্টাল (ঝবৎারপবং.ঢ়ড়ৎঃধষ.মড়া.নফ) এবং ১৪০০-এর বেশি সরকারি ফরম নিয়ে ফর্মস পোর্টাল (ঋড়ৎসং.মড়া.নফ) চালু করা হয়েছে। আদালতের কার্যক্রম আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল মোবাইল কোর্ট সিস্টেম (িি.িবপড়ঁৎঃ.মড়া.নফ) চালু করা হয়েছে। প্রায় ৭৯ হাজার ৬০টি মামলা ই-মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৪.২ মিলিয়ন সেবাগ্রহীতা ই-মোবাইল কোর্ট হতে সেবা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের ২৫ হাজার অফিসে ই-ফাইলিং সিস্টেম বাস্তবায়ন করছে। এছাড়াও ই-নথি ব্যবহার করে সরকারি ১ হাজার ৭০৩টি অফিস হতে জুলাই-২০১৭ পর্যন্ত ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭০ জন সেবা গ্রহণ করেছেন। এই সিস্টেমের মাধ্যমে প্রায় ৯২ হাজার ফাইল নিষ্পত্তি হয়েছে।

* দেশে মোবাইল সিম গ্রাহক ১৩ কোটি ৯৩ লাখ এবং ইন্টারনেট গ্রাহক ৭ কোটি ৭১ লাখ ৪২ হাজারে পৌঁছেছে।

* ২৫ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল ‘তথ্য বাতায়ন’ চালু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে পুুরস্কৃত হয়েছে। প্রতিমাসে প্রায় ৯০ হাজার জনগণ এই পোর্টাল থেকে সেবা গ্রহণ করে থাকেন।

* মহেশখালীতে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্র্ক স্থাপন করা হয়েছে।

* মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে দেশের প্রতিটি বিভাগের সাথে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দিনে যুক্ত হন। এ পর্যন্ত ৫টি বিভাগ যথাÑ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও রংপুরের ৪৪ জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪৪টি জেলার ২৬ হাজার ৯২৪টি বিভিন্ন পর্যায়ের সভার মাধ্যমে ১ কোটি ১২ লাখ ৯১ হাজার ৯৫৯ জন ভিডিও কনফারেন্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

* তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ নামে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

* মুক্তপাঠ (িি.িসঁশঃড়ঢ়ধধঃয.মড়া.নফ) বাংলা ভাষায় নির্মিত একটি উন্মুক্ত ই-লানিং প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে আগ্রহী যে কেউ যে কোনো স্থান থেকে অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। মুক্তপাঠের মাধ্যমে আগস্ট মাসে প্রায় ২৮ হাজারেরও বেশি অভিবাসী শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। সর্বমোট ৪টি কোর্স এবং ৩০০টি কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা হয়েছে।

* জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। ট্রেডমার্ক (সংশোধন) আইন ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

* বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিপুল অবদান রাখছে। ৮টি ইপিজেডে সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত পুঞ্জিত রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১,০৪৯.৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; বিনিয়োগ হয়েছে ৪,৪২৩.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৪৩ জনের, যার মধ্যে ৬৪ শতাংশ নারী। চালু হয়েছে ৪৬৫টি শিল্প। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বেপজার আওতাধীন ইপিজেডের শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে ২৬ হাজার ৬৩৮ বাংলাদেশি শ্রমিকের প্রত্যক্ষ

* শিল্পায়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। এতে ১ কোটির বেশি লোকের কর্মসংস্থান হবে।

* বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার উদ্দেশে যুগোপযোগী ‘রপ্তানি নীতি ২০১৫-১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৯৯টি দেশে ৭৪৪টি পণ্য রপ্তানি করে ৩৪ হাজার ৮৩৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

* ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিজেএমসি’র পাটজাত দ্রব্য রপ্তানির পরিমাণ ৮৮ হাজার ৫১৩ মেট্রিক টন এবং মোট রপ্তানি আয় ৭৯০ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

* ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে ২২৩ কোটি ডলার। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শেষ বছর ২০০৬ সালে যা ছিল মাত্র ৪৫.৬ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৬ সালে মোট এফডিআই এসেছে ২৩৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

* বেসরকারি খাতে ৪৬টি টেলিভিশন, ২২টি এফএম রেডিও এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

* বর্তমান সংসদে স্পিকার ছাড়াও সংসদ নেতা, উপনেতা, বিরোধী দলের নেতাও নারী, যা বিশ্বে নজিরবিহীন।

* মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ দুই পূর্ণমন্ত্রী এবং তিন প্রতিমন্ত্রী, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২১ নারী সরাসরি নির্বাচিত এবং সংরক্ষিত ৫০টি আসনে নারী এমপি রয়েছেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে ষষ্ঠ।

* পুলিশ বাহিনীতে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে মহিলা পুলিশ ইউনিটের অংশগ্রহণ। নারীদের জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন গঠন; প্রথমবারের মতো বিজিবি-তে নারী সদস্য নিয়োগ।

* আপিল বিভাগে সর্বপ্রথম নারী বিচারপতি নিয়োগ। বুয়েট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো নারী উপাচার্য।

* প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ৬০ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত। সরকারি চাকরিতে মেয়েদের জন্য গেজেটেড পদে ১০ শতাংশ, নন-গেজেটেড পদে ১৫ শতাংশ কোটা। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীদের অগ্রাধিকার।

* ১৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও সাড়ে ১২ হাজার নার্স নিয়োগ। ডিপ্লোমা নার্সদের পদমর্যাদা ও বেতন স্কেল দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে।

* গার্মেন্টসে কর্মরত নারীদের সুবিধায় আশুলিয়া ও সাভারে ১৬ তলাবিশিষ্ট হোস্টেল নির্মাণ। নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণে ৪০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন।

* যুবসমাজের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪৯৬টি উপজেলায় বেকার যুবদের উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রশিক্ষণোত্তর আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বীকরণ, যুব ঋণ প্রদান, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি কর্মসূচি চালু রয়েছে।

* বর্তমান সরকারের মেয়াদে ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ২৮৪ যুবক ও যুব মহিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ জন আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

* ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সরকারের একটি অগ্রাধিকামূলক কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় ডিসেম্বর ২০১৬ মাস পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৬৮৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ১ লাখ ১০ হাজার ৩৫১ জনের অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

* যুবসমাজের জন্য ১১টি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এসব পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে ১৪ লাখ ৩২ হাজার ১০৪ বেকার যুবক ও যুব মহিলা উপকৃত এবং ৩১ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপিত হবে।

* ১১টি জেলায় আবাসিক যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুতই শেষ হবে এবং ২৯টি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

* গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছে।

* শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা।

* শিশুর ঝরে পড়া রোধে বিদ্যালয়ে শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, মিড-ডে মিল চালু করা হয়েছে।

* প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল বই ই-বুকে রূপান্তর করা হয়েছে।

* মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও আইসিটি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

* প্রতিটি বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। শ্রমজীবী কিশোর-কিশোরী ও অনগ্রসর পরিবারের শিশুদের জন্য শিশুবান্ধব শিখন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

* শিশুদের প্রতিভা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে ২০১২ সাল থেকে ভাষা ও সাহিত্য, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার এবং বাংলাদেশ স্টাডিজÑ এই চার বিভাগে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

* প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করা হয়েছে।

* দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হচ্ছে।

* শিশুদের নেতৃত্ব বিকাশে প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

* পথশিশু, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের কল্যাণে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

* অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম, ব্রেইল প্রেস, মানসিক প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান, সরকারি বাক-প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয় অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে কাজ করা হচ্ছে।

* শিশু-কিশোরদের সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে কিশোর-কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র, সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, ‘সেফহোম’ ‘প্রবেশন ও আফটার কেয়ার সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে।

* শিশুদের জন্য জাতির পিতার জীবন ও কর্মভিত্তিক গ্রন্থ প্রকাশ এবং পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংযোজন করা হয়েছে।

* বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ৬৪টি জেলা ও ৬টি উপজেলায় প্রতিবছর ২৫ হাজার শিশুকে সংগীত, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, আবৃত্তি, নাট্যকলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

* দ্বি-বার্ষিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং উপজেলা পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত শিশু নাট্য প্রতিযোগিতা ও উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে।

* শিশুর সুরক্ষা এবং শিশুমৃত্যু রোধে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে। ১৯৯০ সালে প্রতিহাজারে নবজাতক শিশুমৃত্যুর হার ছিল ১৪৬, যা ২০১৪ সালে ২৮-এ নেমে এসেছে।

* রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানার শ্রমিকদের মজুরি ও ভাতা প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৬০ বছরে উন্নীত করা হয়েছে।

* স্বতন্ত্র জামদানি পল্লি স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলাধীন তারাবো ইউনিয়নের নোয়াপাড়াতে ২০ একর জমির ওপর ইতোমধ্যে জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই শিল্পনগরীতে মোট ৪০৯টি শিল্প প্লট রয়েছে, ৩৯৯টি প্লট উদ্যোক্তাদের মাঝে বরাদ্দ এবং ৩৬৩টি জামদানি শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয়েছে। তাছাড়া একটি হাটকর্নার স্থাপিত হয়েছে।

* সরকার মৎস্য আহরণ করে বেঁচে থাকা শ্রমজীবী মানুষের তথা মৎস্যজীবীদের কল্যাণে ‘জাল যার জলা তার’ নীতি বাস্তবায়ন করেছে। এজন্য জলমহাল বা উন্মুক্ত জলাশয় লিজ দেওয়ার সময় যেন প্রকৃত মৎস্যজীবীরা লিজ পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সারাদেশের প্রায় ১৫ লাখ জেলেকে নিবন্ধন করা হয়েছে। পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে ১৩ লাখ ৩০ হাজার। অবশিষ্ট জেলেদের নিবন্ধনের কাজ চলছে। ঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাসে মৃত্যু, জলদস্যু এবং বাঘের আক্রমণে প্রাণহানি, কুমির ও সাপের কামড়ে মৃত্যু হলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ২৪৭টি জেলে পরিবারকে মোট ১ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অনুদান প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

* সার্বিকভাবে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী ১৯৯১-৯২ সালে শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত মজুরি চালের মানদ-ে ছিল ৩.২৫ কেজি, যা ২০১০ অর্থবছরে ৮ কেজিতে উন্নীত হয়। আর বর্তমানে ১২ কেজিতে উন্নীত হয়েছে।

* বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০,০০০ হেক্টর জমির ওপর ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন এবং আরও ৪০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য/সেবা উৎপাদন/রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ পর্যন্ত ৭৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।

আশরাফ সিদ্দিকী বিটু